ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ক্যারাবাও কাপের সেমি‑ফাইনাল প্রথম লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে দুই গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে। গেমটি ট্যুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হয় এবং সিটির জয় তাদেরকে দ্বিতীয় লেগে সুবিধা এনে দেয়। ম্যাচের প্রধান ঘটনা হল অ্যান্টোয়ান সেমেন্যোর গোল এবং রায়ান শের্কির অতিরিক্ত সময়ের গোল।
প্রথমার্ধে সেমেন্যো দ্রুতই গোল করে সিটির প্রারম্ভিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করে। তার গোলের পর দলটি আক্রমণাত্মক রীতি বজায় রাখে এবং অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করে। মাঝখানে সেমেন্যো আবার গোল করার চেষ্টা করে, তবে ভিআরএ (VAR) পর্যালোচনার ফলে তার গোলটি বাতিল হয়। ফলে স্কোর ১-০ থেকেই থাকে।
গোল বাতিলের প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘায়িত হয়, যা মাঠে উভয় দলে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। ভিআরএয়ের দেরি সিটির খেলোয়াড়দের মধ্যে রাগের সঞ্চার ঘটায়, তবে একই সঙ্গে তাদের মনোভাবকে তীব্র করে। গার্ডিয়োলা এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে, তিনি বলেন এই ধীরগতি তাদেরকে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ সেশনে তারা এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেয়।
গার্ডিয়োলা বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়রা রাগে ভরপুর ছিল, এবং ভিআরএয়ের দেরি আমাদেরকে শক্তিশালী করেছে।” তিনি যোগ করেন, “এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখি এবং দলের আত্মা আরও দৃঢ় হয়।” তার কথায় স্পষ্ট যে, ভিআরএয়ের সিদ্ধান্তের পরেও সিটি দলটি মনোযোগ হারায়নি।
৯৮তম মিনিটে রায়ান শের্কি অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সিটির সুবিধা আরও বাড়িয়ে দেয়। শের্কির এই গোলটি দলকে দুই গোলের ব্যবধানে রাখে এবং দ্বিতীয় লেগে আত্মবিশ্বাস জোগায়। এই গোলের ফলে সিটি ভক্তদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে এবং দলের মনোবল বাড়ে। শের্কি বললেন, “এই মুহূর্তে আমরা দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করেছি।”
গার্ডিয়োলা অতীতের ভিআরএ সংক্রান্ত বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে নভেম্বর মাসে নিউক্যাসলের বিরুদ্ধে ২-১ পরাজয় এবং গত মৌসুমের এফএ কাপ ফাইনালে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে হারের কথা উঠে আসে। তিনি বলেন, “ভিআরএ কখনো কখনো আমাদের পরিকল্পনা ব্যাহত করে, তবে আমরা তা থেকে শিখে নি।” গার্ডিয়োলা দলের দৃঢ়তা এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন।
নিউক্যাসলের কোচ এডি হাওয়ে ম্যাচের পর দলের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি স্বীকার করেন, “আমরা একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তবে সুযোগগুলো আমরা ব্যবহার করতে পারিনি।” হাওয়ে দলের ক্লান্তি এবং শারীরিক অবস্থা উল্লেখ করে বলেন, “এটি স্বাভাবিক, তবে আমরা এখনও লড়াইয়ে আছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পরবর্তী লেগে যদি আমরা একটি গোল করতে পারি, তবে আমাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।” হাওয়ে দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো ক্ষতি না করে, বরং তা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় লেগটি আগামী মাসে সিটির ইথিয়াদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। উভয় দলই এই ম্যাচে জয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভিআরএ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আরেকবার পরীক্ষা করবে। সিটি দলের জন্য এখন লক্ষ্য হল বর্তমান সুবিধা বজায় রেখে ট্যুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছানো, আর নিউক্যাসলের জন্য দরকার দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং গেম পরিকল্পনা সমন্বয়। উভয় দিকই জানে, পরবর্তী ম্যাচই নির্ধারণ করবে কে চূড়ান্ত ফাইনালে পৌঁছাবে।



