অভিনেতা ও টেলিভিশন পরিচালক টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে নিউ মেক্সিকোর এক আদালত গ্রেফতার ওয়ারেন্ট জারি করেছে। ওয়ারেন্ট প্রকাশের চার দিন পর, ১৩ জানুয়ারি, বাসফিল্ড আলবুকার্কে পুলিশকে আত্মসমর্পণ করেন।
বসফিল্ডের জন্ম মিশিগানের ল্যান্সিং শহরে; তার পিতা নাট্য অধ্যাপক এবং মা ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান প্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ইস্ট ল্যান্সিং হাই স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পর, তিনি অভিনয়ের পথে অগ্রসর হন।
ব্রাইটন বিচ মেমোয়ার্সে ম্যাথিউ ব্রডেরিকের অন্ডারস্টাডি হিসেবে ব্রডওয়ে মঞ্চে প্রথম বড় সুযোগ পান। এরপর ১৯৮৪ সালের জনপ্রিয় কমেডি ‘রেভেঞ্জ অফ দ্য নার্ডস’ এবং ১৯৮৭ সালের সিক্যুয়েলসে তিনি পরিচিতি অর্জন করেন।
১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত ‘থার্টি সামথিং’ সিরিজে তার চরিত্রে এমি জয়ী হওয়ায় তিনি আমেরিকান টেলিভিশনের অন্যতম সম্মানিত মুখ হয়ে ওঠেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে ‘বয়সের নৈতিকতা’ ও ‘সামাজিক দায়িত্ব’ের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছিল।
অভিনয় ছাড়াও, বাসফিল্ড টেলিভিশন পরিচালনায় সফল হয়েছেন। ‘দিস ইজ আস’, ‘শিকাগো মেড’, ‘এফবিআই’ এবং ‘দ্য ক্লিনিং লেডি’ সহ বহু জনপ্রিয় সিরিজে তিনি পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এই পরিবর্তন তাকে শুটিং সেটের শীর্ষে নিয়ে আসে।
সম্প্রতি, নিউ মেক্সিকোর বিচারক ৯ জানুয়ারি একটি গ্রেফতার ওয়ারেন্ট স্বাক্ষর করেন, যেখানে বাসফিল্ডের ওপর শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়ারেন্টের ভিত্তি অপরাধের সম্ভাব্যতা ও প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল বলে জানা যায়।
বসফিল্ড ওয়ারেন্টের চার দিন পর, ১৩ জানুয়ারি, আলবুকার্কের পুলিশ স্টেশনে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময় তিনি কোনো শারীরিক প্রতিরোধ দেখাননি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে নিজেকে উপস্থাপন করেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে, বাসফিল্ডের আইনজীবীর অফিসে তিনি নিজেকে রক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং নিজের নির্দোষতা প্রমাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর, টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোতে তার পূর্ববর্তী কাজের পুনরায় মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। কিছু চ্যানেল তার উপস্থিতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, অন্যদিকে কিছু প্রযোজনা দল তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পে পুনর্বিবেচনা করছে।
বসফিল্ডের ক্যারিয়ার ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে বিস্তৃত। ‘ফিল্ড অফ ড্রিমস’, ‘দ্য ওয়েস্ট উইং’ এবং ‘দ্য সিক্স থিংস’ মতো চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকদের কাছে স্মরণীয়।
এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে এবং বাসফিল্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সময়ই বলবে। তবে, তার ক্যারিয়ারের উঁচু শিখরে পৌঁছানো সত্ত্বেও এই অভিযোগ তার পেশাগত সুনামকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বসফিল্ডের সমর্থক ও সমালোচক উভয়ই এই ঘটনার পর তার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছেন। কিছু মানুষ তার পূর্বের কাজকে আলাদা করে দেখছেন, আবার অন্যরা তার নৈতিক দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
এই ঘটনায় মিডিয়া ও জনমত উভয়ই তীব্রভাবে অনুসরণ করছে, এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এই মামলা সমাধান হবে তা শিল্পের নীতি ও নৈতিকতার আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।



