চেলসের নতুন প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিয়র রাহিম স্টার্লিং এবং অ্যাক্সেল ডিসাসির সঙ্গে তাদের ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার পরিকল্পনা করেছেন। দুই খেলোয়াড়ই এই মৌসুমে মাঠে নামেনি এবং গত গ্রীষ্ম থেকে বিক্রির তালিকায় রয়েছে, তবে এখনো কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। রোজেনিয়র এই আলোচনাগুলোকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
রোজেনিয়র চেলসের দলে পদার্পণ করার পর থেকে দলকে গঠনমূলকভাবে মূল্যায়ন করছেন। তার প্রথম কাজগুলোর একটি হল বুধবার আরসেনালের সঙ্গে কারাবাও কাপের সেমিফাইনাল প্রথম লেগের প্রস্তুতি। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি নতুন সাইনিংয়ের প্রয়োজন আছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য সময় পাননি।
স্টার্লিং এবং ডিসাসি দুজনেই গত মৌসুমে কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি। স্টার্লিং, যিনি ইংল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার, চুক্তির শেষ ১৮ মাসে রয়েছেন এবং তার বেতন প্রায় £৩২৫,০০০ প্রতি সপ্তাহ। ডিসাসি, মনাকোর প্রাক্তন সেন্টার-ব্যাক, দীর্ঘ সময় অনির্ধারিত অবস্থায় ছিলেন। উভয়েরই বিক্রির মূল্য নির্ধারণে ক্লাবের হাতে সীমিত বিকল্প রয়েছে।
রোজেনিয়র বললেন, “আমি এখনো নতুন কাজের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি, মাত্র চার দিন কাজের পরই এই বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিচ্ছি। রাহিমের ক্যারিয়ার চমৎকার এবং আমি তাকে ও অ্যাক্সেলকে অনেকদিন ধরে পছন্দ করেছি। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের গেমের সংখ্যা বেশি, তাই এই বিষয়টি এখনই আলোচনা করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমি আগামী কয়েক দিনে তাদের সঙ্গে এবং ক্লাবের সঙ্গে আলাপ করব।” এই বক্তব্যে তিনি উভয় খেলোয়াড়ের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন।
স্টার্লিংয়ের প্রতি ফালহামের কিছু আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে রোজেনিয়র এখনও তার ফিরে আসার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বাদ দেননি। ডিসাসির ক্ষেত্রেও একই রকম; যদিও তার ফিরে আসা অনিশ্চিত, কোচের মতে তিনি দলের জন্য মূল্যবান বিকল্প হতে পারেন। উভয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাপের পরে রোজেনিয়র ক্লাবের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
চেলসের স্থানান্তর বাজারে এখনো বেশ কিছু অস্থিরতা রয়েছে। উইন্ডো শীঘ্রই বন্ধ হতে চলেছে, তাই ক্লাবটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চায়। রোজেনিয়র উল্লেখ করেন, “আমাদের অগ্রাধিকারগুলো পরিষ্কার করতে হবে এবং সম্ভাব্য সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে।” তিনি জানিয়েছেন, “এটি একটি দ্রুতগামী প্রক্রিয়া, তবে আমরা সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেব।”
প্রশিক্ষণ মাঠে রোজেনিয়র তার প্রথম ম্যাচে চেলসকে চার্টনকে ৫-১ স্কোরে পরাজিত করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন। এই জয় দলকে নতুন কোচের অধীনে ইতিবাচক দিক দেখিয়েছে এবং রোজেনিয়রকে তার কৌশলগত পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলছেন, “এখন আমাদের লক্ষ্য হল দলকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়া এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভূমিকা স্পষ্ট করা।”
চেলসের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি হবে কারাবাও কাপের সেমিফাইনাল প্রথম লেগ, যেখানে আরসেনালকে স্বাগতম জানাবে। এই ম্যাচের ফলাফল রোজেনিয়রের দল গঠন এবং স্থানান্তর সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে। কোচের মতে, “প্রতিটি গেম আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা, এবং আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করব।” এই পরিস্থিতিতে স্টার্লিং ও ডিসাসির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।



