ইরানের ইস্লামিক প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা বাহিনী গত দুই সপ্তাহে তীব্র প্রতিবাদ দমন করেছে, তবে শাসনের পতনের সংকেত এখনও ধীরগতিতে প্রকাশ পাচ্ছে। দেশীয় ও বিদেশি সমর্থকরা ইরানের শাসন কাঠামোর হঠাৎ ভেঙে পড়ার প্রত্যাশা করলেও, বর্তমান পরিস্থিতি তা নিশ্চিত করে না।
সাম্প্রতিক অশান্তি দেশের শাসন ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সংকটের সূচনা করেছে। পূর্বে ইরানের জনগণ রাস্তায় উঠে বিরোধ প্রকাশ করলেও, এই নতুন উন্মাদনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক গত দুই বছরে ইরানের ওপর চালানো সামরিক আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে, ইরানের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দেশের পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স সেপ্টেম্বর মাসে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বাতিল করা ইউএন নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করেছে। ২০২৫ সালে খাদ্যের মূল্য ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, আর রিয়াল মুদ্রা ডিসেম্বর মাসে রেকর্ড নিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
এই আর্থিক চাপে সত্ত্বেও, শাসন কাঠামো অবিলম্বে ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে সরকার নিরাপত্তা ও দমন ব্যবস্থার জন্য বিশাল সম্পদ ও সময় ব্যয় করেছে, যা এখনো কার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর আদেশে নাগরিকদের উপর গুলি চালানো হয়, ফলে প্রতিবাদকারীরা ভয় পেয়ে ফিরে এসেছে। সরকার যোগাযোগের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, ফলে দেশের ভিতরে তথ্যের প্রবাহ সীমিত হয়েছে।
প্রতিবাদ দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ইরানি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। এই সংস্থা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আদর্শ ও শাসনব্যবস্থা রক্ষার জন্য গঠিত, এবং সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের অধীনস্থ।
আইআরজিসি প্রায় ১,৫০,০০০ সৈন্য নিয়ে গঠিত, যা দেশের প্রচলিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে। এই সমান্তরাল শক্তি শাসনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর আনুগত্য নিশ্চিত করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের শাসন কাঠামো ধীরে ধীরে সংকটে রয়েছে, তবে হঠাৎ পতনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ়তা ও আইআরজিসির ক্ষমতা শাসনের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ভবিষ্যতে প্রতিবাদকারীদের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে, এবং শাসন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা সময়ের ওপর নির্ভরশীল।



