১ জানুয়ারি শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ ‘28 Years Later: The Bone Temple’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রটি থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়। নিয়া দাকোস্টা পরিচালিত এই ছবি, অ্যালেক্স গারল্যান্ডের স্ক্রিপ্টে তৈরি, ড্যানি বুলির ২০০২ সালের ‘28 Days Later’ সিরিজের ধারাবাহিক হিসেবে পরিচিত।
চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে রালফ ফিনেস, জ্যাক ও’কনেল, আলফি উইলিয়ামস, এরিন কেলিম্যান এবং চি লুইস-প্যারি অভিনয় করেছেন। রালফ ফিনেস ডক্টর ইয়ান কেলসন নামের এক বেঁচে থাকা মেডিককে উপস্থাপন করেন, যিনি মানব হাড়ের গঠন করে একটি বিশাল মন্দির তৈরি করেন।
কেলসন তার মন্দিরকে একধরনের পারফরম্যান্স আর্টের মঞ্চে রূপান্তরিত করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন রক ও ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের সুরে দৃশ্য সাজিয়ে তোলেন। ছবিতে আইরন মেইডেনের হেভি মেটাল, ডুরান ডুরানের সিঞ্চ পপ এবং রেডিওহেডের আর্ট-রক মিশ্রিত হয়েছে, যা দৃষ্টিনন্দন ভিজ্যুয়াল ও শোনার অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
গল্পের পটভূমি একটি দূরবর্তী ভবিষ্যৎ যেখানে ভাইরাসজনিত রক্তপিপাসু প্রাণী মানুষের সমাজকে হুমকির মুখে ফেলেছে। কেলসন, যিনি নিজেকে এক ধরনের বেঁচে থাকা বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তুলেছেন, তার মন্দিরকে বেঁচে থাকা মানুষের জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে উপস্থাপন করেন। তবে তার পদ্ধতি ও নৈতিকতা প্রায়শই প্রশ্নের মুখে আসে।
চলচ্চিত্রের মোট দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা উনচল্লিশ মিনিট, এবং এটি ‘R’ রেটেড, অর্থাৎ ১৭ বছরের নিচের দর্শকদের জন্য উপযুক্ত নয়। ছবির রেটিং ও বিষয়বস্তু নির্দেশ করে যে এতে রক্তাক্ত দৃশ্য, তীব্র ভয়াবহতা এবং প্রাপ্তবয়স্ক থিম রয়েছে।
‘28 Years Later: The Bone Temple’ তার পূর্বসূরির মতোই অন্ধকারময় ও দুঃসাহসিক পরিবেশ বজায় রেখেছে, তবে নতুন সাউন্ডট্র্যাক ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলের মাধ্যমে ভিন্ন স্বাদ যোগ করেছে। নিয়া দাকোস্টার পরিচালনায় ছবির দৃশ্যাবলী তীব্র, দ্রুতগতির এবং কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়।
অ্যালেক্স গারল্যান্ডের স্ক্রিপ্টে চরিত্রগুলোর মানসিক দ্বন্দ্ব ও বেঁচে থাকার সংগ্রামকে গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও গল্পের কিছু অংশ মূল সিরিজের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয়, তবু এটি সমগ্র নিকট-ভবিষ্যৎ জগতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
সমালোচকরা ছবিটিকে ‘উচ্চ তীব্রতা, কখনও বিরক্তিকর নয়’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। দৃশ্যের দ্রুত পরিবর্তন, সঙ্গীতের অপ্রচলিত সংমিশ্রণ এবং চরিত্রের তীব্র অভিনয় দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখে। তবে কিছু দর্শককে গল্পের অপ্রত্যাশিত দিকগুলি সাময়িকভাবে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ‘28 Years Later: The Bone Temple’ একটি দুঃসাহসিক, রক্তাক্ত এবং সঙ্গীতময় হরর চলচ্চিত্র, যা ভয় ও উত্তেজনা একসাথে উপস্থাপন করে। হরর ও সাই-ফাই প্রেমিকদের জন্য এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যেখানে ভিজ্যুয়াল ও অডিও উপাদানগুলো একত্রে মিশে একটি অনন্য সিনেমাটিক জগত গড়ে ওঠে।
চলচ্চিত্রটি ১ ঘণ্টা ৪৯ মিনিটের সময়সীমা নিয়ে, রেটেড ‘R’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ, এবং ১৬ জানুয়ারি থিয়েটারে মুক্তি পেয়েছে। হরর, সাই-ফাই ও সঙ্গীতের সমন্বয়ে গঠিত এই ছবিটি, নয়া দর্শকদের পাশাপাশি সিরিজের পুরনো ভক্তদেরও আকৃষ্ট করবে বলে ধারণা করা যায়।



