ইরানের রাজনৈতিক অশান্তি এবং তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বাধা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত মঙ্গলবার ১.৭ শতাংশ বাড়ে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১.০৬ ডলার বাড়ে, মোট ৬৪.৯৩ ডলারে পৌঁছে, যা গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি পরের সর্বোচ্চ স্তর। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলও ১.০২ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৬০.৫২ ডলারে স্থিত হয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি তেলের মূল্যে একটি সুরক্ষামূলক প্রিমিয়াম যোগ করেছে। ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলার সরবরাহের অনিশ্চয়তা, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং গ্রিনল্যান্ডের চারপাশের উত্তেজনা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরান, যা ওপেকের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদক, সাম্প্রতিক সময়ে বিশাল পরিসরে সরকারবিরোধী প্রতিবাদে জর্জরিত। মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দমনমূলক পদক্ষেপে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজারো নাগরিক গ্রেফতার হয়েছে। এই পরিস্থিতি তেল রপ্তানির ধারাবাহিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে তীব্র করেছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পাশাপাশি, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের সম্ভাব্য বৃদ্ধি তেলের দামের ওপর চাপ কমাতে পারে বলে আশা করা হয়। তবে, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এখনও স্পষ্ট নয়, ফলে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারেনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি সন্ধানে তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে, যা তেল চাহিদা ও দামের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে, গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার ফলে শিপিং রুটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
এই সব কারণের সমন্বয়ে তেল বাজারে একটি সুরক্ষামূলক প্রিমিয়াম যুক্ত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারী ও দেশীয় নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কতা সংকেত হিসেবে কাজ করছে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে গ্লোবাল অর্থনীতিতে জ্বালানি খরচের চাপ বাড়বে, বিশেষ করে তেল-নির্ভর দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে তেলের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি অব্যাহত থাকে বা ভেনেজুয়েলার সরবরাহে নতুন বাধা দেখা দেয়। তাছাড়া, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবস্থা ও গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধি তেল বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভেনেজুয়েলার সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি তেলের দামের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি ব্যাখ্যা করে। বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এই ঝুঁকিগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তেল মূল্যের অস্থিরতা থেকে সৃষ্ট আর্থিক প্রভাবকে কমিয়ে আনা যায়।



