উগান্ডার যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ১৮:০০ (স্থানীয় সময়) থেকে দেশের সব ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে অনলাইন মিথ্যা তথ্য, গুজব ও নির্বাচনী জালিয়াতি রোধ করা যায়। এই পদক্ষেপটি নিরাপত্তা সংস্থার শক্তিশালী সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং কখন পুনরায় চালু হবে তা এখনও জানানো হয়নি।
সেবাদাতাদের কাছে প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাময়িক বন্ধটি শান্তি বজায় রাখা, জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সংবেদনশীল সময়ে যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ভয়েস কল ও মৌলিক এসএমএস সেবা চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে, তবে ডেটা সংযোগের সম্পূর্ণ অপ্রাপ্যতা ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যে দেখা গেছে।
মোবাইল ডেটা ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট অ্যাক্সেস না পাওয়ার অভিযোগ জানাচ্ছেন, তবে বড় হোটেল ও কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এখনও ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু রয়েছে। এই পার্থক্যটি নির্বাচনের সময় তথ্যের প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
উগান্ডা কমিউনিকেশনস কমিশন (UCC) পূর্বে ইন্টারনেট বন্ধের গুজবকে “মিথ্যা” বলে খণ্ডন করে, দেশের সর্বত্র নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছিল। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় অনুরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল এবং সেই সময়ে ব্যাপক প্রতিবাদে বহু মানুষ নিহত হয়েছিল।
এই বছরের বৃহস্পতিবারের প্রেসিডেন্টীয় নির্বাচন ২০২১ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পুনরাবৃত্তি, যেখানে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা ৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি আবার ৪৩ বছর বয়সী প্রাক্তন পপ স্টার ববি ওয়াইন (রবের্ট কিয়াগুলান্যি) এর মুখোমুখি হবেন। উভয়ের পাশাপাশি আর ছয়জন প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
মুসেভেনি “গেইন রক্ষা” ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্লোগান দিয়ে ভোটারদের কাছে আবেদন করছেন, যেখানে ববি ওয়াইন “প্রোটেস্ট ভোট”ের আহ্বান জানিয়ে দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। উভয় দলের প্রচারাভিযান এখনই ইন্টারনেট বন্ধের কারণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অধিকাংশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থা ইন্টারনেট বন্ধকে তথ্যের স্বাধীনতা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। তবে সরকার এই পদক্ষেপকে “প্রয়োজনীয় সতর্কতা” বলে যুক্তি দিচ্ছে, যাতে অনলাইন মিথ্যা তথ্যের বিস্তার ও সহিংসতার উস্কানি রোধ করা যায়।
ইন্টারনেটের সাময়িক অপ্রাপ্যতা নির্বাচনের ফলাফল, ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উগান্ডার রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, এবং নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলো দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



