অ্যাডিলেড ফেস্টিভালের শীর্ষ লেখক উৎসব, ফিলিস্তিনি-অস্ট্রেলীয় লেখিকাকে আমন্ত্রণের পর তা প্রত্যাহার করার ফলে ব্যাপক প্রতিবাদে মুখোমুখি হয়েছে। ১৮০েরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লেখক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা জানিয়ে অংশগ্রহণ প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন, আর ফেস্টিভালের পরিচালক লুইস অ্যাডলারও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
বন্ডি সৈকতে গত মাসে একটি ইহুদি ধর্মীয় উৎসবে গুলিবর্ষণ ঘটায় ১৫ জনের মৃত্যু। এই ট্র্যাজেডি পরবর্তী দিনগুলোতে সিডনির বিভিন্ন পাবলিক স্থানে প্রতিবাদ ও স্লোগান নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা বাকস্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলে সমালোচকরা উল্লেখ করেন।
বন্ডি সৈকতে ঘটনার পরই অ্যাডিলেড ফেস্টিভাল বোর্ড ফিলিস্তিনি লেখিকা রান্ডা আবদেল‑ফাত্তাহকে উৎসবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে। বোর্ডের মতে, ট্র্যাজেডির শোকময় পরিবেশে ফিলিস্তিনি লেখকের উপস্থিতি সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল হবে না এবং শোকাহত সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লেখক সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন, ব্রিটিশ লেখিকা জেডি স্মিথ এবং পুলিৎজার বিজয়ী পার্সিভাল এভারেটসহ বহু বিশিষ্ট লেখক উৎসবে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের প্রত্যাখ্যানের মূল কারণকে ফিলিস্তিনি লেখিকাকে বাদ দেওয়াকে সেন্সরশিপ ও বর্ণবাদী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ফেস্টিভাল বোর্ডের পরবর্তী বিবৃতিতে তারা সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট বিভেদ ও আঘাতের জন্য ক্ষমা চেয়ে জানান। তবে একই সঙ্গে জানানো হয় যে, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত শীর্ষ লেখক উৎসব আর অনুষ্ঠিত হবে না এবং অবশিষ্ট বোর্ড সদস্যরাও পদত্যাগের কথা বিবেচনা করছেন।
লুইস অ্যাডলার, যিনি হলোকাস্ট থেকে বেঁচে থাকা দম্পতির কন্যা, এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি গার্ডিয়ান পত্রিকায় লিখে জানান যে, ফিলিস্তিনি লেখিকাকে বাদ দেওয়া বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত হানে এবং এটি একটি দমিত জাতির প্রতি অনুন্নত বার্তা প্রেরণ করে।
রান্ডা আবদেল‑ফাত্তাহও সামাজিক মাধ্যমে বোর্ডের ক্ষমা প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই পদক্ষেপকে “ফিলিস্তিনি‑বিরোধী বর্ণবাদ এবং সেন্সরশিপের নির্লজ্জ প্রকাশ” বলে উল্লেখ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে বন্ডি সৈকতে ঘটিত গুলিবর্ষণ ও তার শিকারদের সঙ্গে তার বা কোনো ফিলিস্তিনির কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎসবের এই ধারাবাহিক বাতিল ও নেতৃত্বের পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বহু শিল্পকর্ম ও প্রকাশনা সংস্থা এখনো এই ঘটনার পরিণতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য সাহিত্যিক ইভেন্টগুলোও এই ঘটনার প্রভাব অনুভব করছে। কিছু সংগঠন ইতিমধ্যে তাদের প্রোগ্রামিংয়ে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি অধিক মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য না হয়।
বন্ডি সৈকতে গুলিবর্ষণের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও তীব্র আলোচনা চলছে। সরকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, পাবলিক ইভেন্টে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তবে একই সঙ্গে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ সমতা বজায় রাখতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, অ্যাডিলেড ফেস্টিভালের শীর্ষ লেখক উৎসবের বাতিল এবং ফিলিস্তিনি লেখিকাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক নীতি, বাকস্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক সংযোগের মধ্যে জটিল দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করেছে। এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে কীভাবে সমাধান হবে, তা শিল্প ও সমাজ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।



