ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের correspondent মাহফুজ আলম ১৪ জানুয়ারি জানিয়েছেন যে, গত চার মাসে তাকে কোনো কাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই নিষেধাজ্ঞা তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং তিনি এখনো পূর্ণ কর্মক্ষমতা ফিরে পায়নি।
মাহফুজ আলমের এই বক্তব্যের সঙ্গে একই সময়ে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারী ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে গত বছর থেকে চলমান গুম মামলাগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ এবং সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি এই প্রতিবেদনটি আগে প্রকাশ করা হতো, তবে শীঘ্রই জনসাধারণের আন্দোলন কমে যেত।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই তথ্যটি ব্যবহার করে জনমতকে শান্ত করতে পারতেন। তবে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে রায়ে ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত সংবাদও উঠে এসেছে। ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে চলমান বিতর্কে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দাবি করে যে, রায়ে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা দরকার।
অন্যদিকে, সরকার মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্কে হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন শুল্ক নীতির ফলে স্মার্টফোনের মূল্যে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এই পদক্ষেপটি ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিসরে, নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম “জনযাত্রা” গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হিসেবে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সংস্কার প্রস্তাব করা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই গুম তদন্তের ফলাফল এবং শুল্ক হ্রাসের নীতির ওপর নিজস্ব অবস্থান প্রকাশ করেছে। বিএনপি নেতারা শুল্ক হ্রাসকে জনগণের স্বার্থে একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, আর আওয়ামী লীগ সরকারকে এই নীতির কার্যকরী বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
মাহফুজ আলমের কাজের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি শ্রম অধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা দাবি করে যে, কোনো কর্মীর কাজের অনুমতি স্বেচ্ছায় বন্ধ করা হলে তা শ্রম আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
গুম তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে তাদের দাবিগুলোকে শক্তিশালী করতে চায়। তারা আশা করে, এই প্রতিবেদনটি গুম মামলায় দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হবে।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে গুম তদন্তের ফলাফল, শুল্ক নীতি পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলো একসঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আগামী সপ্তাহে সরকারী ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা এবং সম্ভাব্য নীতি সমন্বয় প্রত্যাশিত।



