28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি, দ্রুত বিচার ও শাস্তি বাড়ছে

ইরানে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি, দ্রুত বিচার ও শাস্তি বাড়ছে

ইরানের বিচার বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে যে সাম্প্রতিক প্রতিবাদে গ্রেফতার হওয়া কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণকারী ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কঠোর করার ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে।

তেহরানের প্রসিকিউটর অফিসের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট না করা সংখ্যক অভিযুক্তকে “মোহারেব”—অর্থাৎ “ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ”—এর অভিযোগে আদালতে পাঠানো হবে। মোহারেব শারিয়া আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য অপরাধ এবং ইরানে পূর্বে বহুবার এই ধারা ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলি দাবি করে যে, গত কয়েক মাসের প্রতিবাদে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, আর রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও বহু সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে, যা উভয় পক্ষের ক্ষতি বাড়িয়ে তুলেছে। এই তথ্যগুলো দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।

বিশ্বে চীনকে বাদ দিয়ে ইরান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ হিসেবে রেকর্ড করে। নরওয়েজিয়ান ইরান হিউম্যান রাইটস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কমপক্ষে ১,৫০০ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই সংখ্যা ইরানের শাস্তি নীতি কঠোরতার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

প্রতিবাদ আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ে ২০২২ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে মোট বারোজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তদুপরি, জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের পর থেকে আরেকটি বারোজনকে ইসরায়েলকে গোপনভাবে সমর্থন করার অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিক শাস্তি মানবাধিকার সংস্থার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখ করেছে যে, সরকার দ্রুত বিচার এবং স্বেচ্ছাচারী মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ দমন করার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের প্রক্রিয়া নাগরিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার উচ্চকমিশনার ভল্কার টার্কও ইরানের বিচারিক কর্মকর্তাদের এমন বিবৃতি প্রকাশের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। তিনি এটিকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ইরান হিউম্যান রাইটস গ্রুপের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকার দ্রুত বিচার পরিচালনা করে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি উপেক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে ২৬ বছর বয়সী আরফান সোলতানি নামের এক তরুণের ক্ষেত্রে, যাকে গত সপ্তাহে কারাজ শহরে গ্রেফতার করা হয় এবং ইতিমধ্যে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে, তা এই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে। তার পরিবার জানায় যে, শাস্তি কার্যকর হওয়ার সময়সীমা খুবই কাছাকাছি।

এই পরিস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক পরিবেশে আরও কঠোর দমনমূলক নীতি চালু করার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিদেশি সরকারগুলো ইতিমধ্যে ইরানের শাস্তি নীতি নিয়ে সমালোচনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার দিকে নিয়ে যেতে পারে। দেশীয়ভাবে, কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে পারে, তবে একই সঙ্গে বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে আরও অশান্তি ও অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের বর্তমান নিরাপত্তা নীতি এবং শাস্তি প্রয়োগের পদ্ধতি দেশীয় অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই নীতি সমন্বয় করা হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments