অভিনেতা জয়দীপ আহলওয়াতের পিতা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দয়ানন্দ আহলওয়াত, ১৩ জানুয়ারি রাতের দিকে হরিয়াণার রোহতকের মেহামের খারকরা গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার জানায়, দয়ানন্দের বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি, এবং তিনি দীর্ঘদিনের শিক্ষকের ক্যারিয়ার শেষে শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর সংবাদ স্থানীয় সম্প্রদায়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বহু মানুষ শোক প্রকাশ করে।
দয়ানন্দের মৃত্যুর পর জয়দীপ তৎক্ষণাৎ হরিয়াণা ফিরে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। তিনি দ্রুত হাওড়া থেকে রওনা হয়ে খারকরা গ্রামে পৌঁছান, যাতে শেষ সমাহার এবং শোকের সময় পরিবারকে সমর্থন করতে পারেন। তার উপস্থিতি পরিবারকে মানসিক শক্তি প্রদান করেছে এবং শোকের মুহূর্তে একসাথে থাকার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
দয়ানন্দ আহলওয়াত জয়দীপের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেন্টর ছিলেন। শিক্ষক পেশায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ জয়দীপের শিল্পজীবনের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। জয়দীপ প্রায়ই তার পিতার উৎসাহ ও পরামর্শকে তার সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা তার অভিনয় ক্যারিয়ারে দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছে।
জয়দীপের দল থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে পরিবারের গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দয়ানন্দ পরিবার ও প্রিয়জনের স্নেহে স্বর্গে প্রবেশ করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে পরিবারকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সকলের সমর্থন ও প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
দয়ানন্দের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হরিয়াণার নিজ গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এবং পরিবারিক সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন। শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারকে শোকের সময়ে সমর্থন জানাতে বহু মানুষ উপস্থিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪৪ বছর বয়সী জয়দীপ আহলওয়াত, যিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “মহারাজ” (২০২৪), “জানে জান” (২০২৩), “দ্য ব্রোকেন নিউজ” (২০২২) এবং “ব্লাডি ব্রাদার্স” (২০২২) ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, এই ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। তার অভিনয় ক্যারিয়ার দ্রুত উত্থান পেয়েছে, তবে পিতার মৃত্যুর শোক তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ধন্যবাদসূচক বার্তায় বলা হয়েছে, এই কঠিন মুহূর্তে সমাজের সমর্থন ও প্রার্থনা তাদের জন্য বড় সান্ত্বনা। পরিবার অনুরোধ করেছে, শোকের সময়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হোক এবং দয়ানন্দের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে প্রার্থনা অব্যাহত রাখা হোক।
দয়ানন্দের জীবনকথা এবং শিক্ষার প্রতি তার নিবেদন স্থানীয় যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। তার মৃত্যুর পর, অনেক শিক্ষার্থী এবং সহকর্মী সামাজিক মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণীয় বার্তা পাঠিয়েছেন, যা তার শিক্ষার প্রভাবকে পুনরায় তুলে ধরেছে।
শোকের সময়ে জয়দীপ পরিবারকে সমর্থন করার জন্য বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, পিতার স্মৃতিতে শিক্ষার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই পরিকল্পনা পিতার শিক্ষকের পরিচয়কে সম্মান জানাবে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং সমাজের নেতারা দয়ানন্দের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত, যাতে তার জীবনের শেষ পর্যায়ে সুষ্ঠু ও শালীন সমাপ্তি নিশ্চিত করা যায়। এই অনুষ্ঠানটি হরিয়াণার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হবে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ হবে।
দয়ানন্দ আহলওয়াতের অকাল বিদায় পরিবার এবং সমগ্র শিল্প জগতে গভীর শোকের কারণ হয়েছে। তার সন্তান জয়দীপের সঙ্গে তার স্মৃতি এবং শিক্ষার মূল্যায়ন ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা যায়। পরিবার এই কঠিন সময়ে সকলের সমর্থন ও প্রার্থনা কামনা করে, যাতে শোকের পরেও জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়।



