মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা মিলনায়তন হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সম্ভাব্য প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা, যাদেরকে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের আগে যেকোনো প্রকারের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করতে সকলের সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন।
আলম বলেন, দেশের স্বার্থে আর কোনো দুর্নীতি বা অবৈধ কার্যকলাপের সুযোগ থাকবে না; যারা নির্বাচনের সময় ভয় বা অনিশ্চয়তা অনুভব করেন, তারা আগে থেকেই জানিয়ে দিলে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূর্বের মতো কোনো অনিয়ম বা হুমকি সহ্য করা হবে না।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে জেলা প্রশাসন সবসময় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের পাশে থাকবে। কোনো ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এই নীতির মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।
আলমের মতে, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন মানুষের কাছে উপহার হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। তিনি এটিকে নিজের এবং পুরো প্রশাসনিক দলের কমিটমেন্ট হিসেবে তুলে ধরেন।
সভায় মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব সভাপতিত্ব করেন। তিনি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে, নির্বাচনের গুরুত্ব ও দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে চেয়েছেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপারইন্টেনডেন্ট মো. এহতেশামুল হক, মাদারীপুর ক্যাম্পের সেনা ক্যাপ্টেন সাফিন, র্যাব-৮ কোম্পানি কমান্ডার সুপারইন্টেনডেন্ট মীর মনির হোসেন, আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক শুভ্র চৌধুরী এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। এই সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অংশগ্রহণ নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবে।
মিটিং চলাকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত সম্ভাব্য প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের প্রশ্ন শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রশ্নগুলোর মধ্যে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি যোগাযোগের পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে কর্মকর্তারা নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা দলকে অবহিত করতে হবে।
এই সভা নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা এখন থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা মজবুত করে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং ভোটের দিন সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এ ধরনের সমন্বিত প্রস্তুতি ও স্পষ্ট নির্দেশনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতায় নির্বাচনকে নির্ভুল ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



