27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক কার্যক্রমে ২,০০০‑এরও বেশি মানুষ নিহত

ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক কার্যক্রমে ২,০০০‑এরও বেশি মানুষ নিহত

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপে গত ১৭ দিনে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, মানবাধিকার সংস্থা ও ইরান সরকার উভয়ই একই রকম মৃত্যুর সংখ্যা জানিয়েছে। এই সংঘর্ষের শিকারে প্রতিবাদকারী, সরকারী কর্মী, বেসামরিক নাগরিক ও শিশু অন্তর্ভুক্ত, এবং ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধের ফলে তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে যে, তারা এখন পর্যন্ত ১,৮৫০ জন প্রতিবাদকারী, ১৩৫ জন সরকারী কর্মী, নয়জন বেসামরিক নাগরিক এবং নয়জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। এই সংখ্যা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাঝেও সংগ্রহ করা হয়েছে।

একজন ইরানি সরকারি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি, এবং এই ক্ষতির দায়িত্ব ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে কঠোর নোটিশ দিয়েছেন, বলেন নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে বড় দামের পরিশোধ করতে হবে এবং জনগণকে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইরানের ওপর সামরিক ও অন্যান্য পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করে, ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রতিবাদগুলো ৩১টি প্রদেশের ১৮০টি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও জীবনের ব্যয়বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অসন্তোষই এই আন্দোলনের সূচনা করেছিল। সময়ের সাথে সাথে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে যুক্ত হয়েছেন, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি তীব্রতর হয়ে ওঠে; নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগে লিপ্ত হয় এবং একই সঙ্গে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ পরিষেবাগুলো প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। এই পদক্ষেপের ফলে দেশজুড়ে তথ্যের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

HRANA মঙ্গলবার বিকেলে জানিয়েছে যে, তারা অন্তত ২,০০৩ জনের মৃত্যুর নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে এবং অতিরিক্ত ৭৭৯ জনের মৃত্যুর সম্ভাব্য রিপোর্টও পর্যালোচনা করছে। সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সংখ্যা সম্ভবত বাস্তবের চেয়ে কম হতে পারে।

নরওয়ের ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) নামের অন্য একটি সংস্থা অন্তত ৭৩৪ জন প্রতিবাদকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। সংস্থার পরিচালক উল্লেখ করেন যে, এই তথ্য দেশের অর্ধেকের কম প্রদেশ এবং দশ শতাংশের কম হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত, ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পের আলোচনায় ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে, যা বিদ্যমান প্রতিবাদকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

অন্যদিকে, ইরান সরকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দোষারোপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে, তবে মানবাধিকার সংস্থার ধারাবাহিক মৃত্যুর রিপোর্ট আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে তুলবে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের সমন্বয়ই ইরানের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের নাগরিকদের অব্যাহত প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবাধিকার সংক্রান্ত আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন একসঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments