বিএনপি ১৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় আইনি পদক্ষেপের দাবি জানায়। দলটি দাবি করে যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। একই দিনে দলটির চারজন প্রতিনিধি, যার মধ্যে নজরুল ইসলাম খানও অন্তর্ভুক্ত, এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগারগাঁও ইসির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারটি বিকেল পাঁচটায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ছয়টায় শেষ হয়।
বিএনপি দলটি ইসির কাছে জানায় যে তারা পোস্টাল ব্যালটের অস্বাভাবিক কার্যক্রমের তদন্তের জন্য ত্বরিত ব্যবস্থা চায়। দলটি উল্লেখ করে যে বিশেষ রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহ রয়েছে এবং তা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
সাক্ষাৎকারে নজরুল ইসলাম খান জানান যে ইসি দলকে আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্বাচনে জালিয়াতি করার চেষ্টা করে, তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং ভোটার তালিকায় প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হবে।
বিএনপি দলটি জোর দিয়ে দাবি করে যে যারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দলটি ইসির এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করার ওপরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এই নির্বাচনকে প্রথমবারের মতো বিদেশে থাকা বাংলাদেশি ভোটারদের জন্যও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং কারাবন্দীরাও এই পদ্ধতিতে অংশ নিতে পারবে।
ইসির মতে, পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়াটি আইটি‑সাপোর্টেড সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং এর জন্য নির্বাচনী আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ভোটারদের তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ ও যাচাই করা সম্ভব হবে।
পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া ৫ জানুয়ারি শেষ হয়েছে এবং ইসির সূত্রে জানা যায়, আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫,২৭,১৫৫ জন ভোটারকে পোস্টাল ভোটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৭,৬০,০০০ জন প্রবাসী ভোটার।
বাকি ভোটারদের মধ্যে ছয় লক্ষেরও বেশি সরকারি কর্মচারী, প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজারজন নির্বাচনী কর্মকর্তা, দশ হাজারের কাছাকাছি আনসার‑ভিডিপি সদস্য এবং ছয় হাজারের বেশি কারাবন্দী অন্তর্ভুক্ত। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি নতুন দিক নির্দেশ করে।
ইসির পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য না থাকলেও, পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহারে সম্ভাব্য জালিয়াতি রোধে কঠোর নজরদারি এবং আইনি পদক্ষেপের দাবি বাড়ছে। দলীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বিএনপি এবং ইসির মধ্যে এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ হবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। যদি ইসি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, যদি কোনো জালিয়াতি ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এনআইডি ও ভোটার তালিকায় প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রচেষ্টা রোধে প্রভাব ফেলবে।
এই পদক্ষেপের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং নির্বাচনের ফলাফলে তাদের প্রভাব স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে, ইসির কঠোর নীতি এবং আইনি ব্যবস্থার প্রয়োগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



