বুধবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিসিবি সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন দেশীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় মাটিতে দলীয় সফর না করার সিদ্ধান্ত পুনরায় নিশ্চিত করেন।
হোসেন জানান, বিসিবি ইতিমধ্যে তার অবস্থান স্থির রেখেছে এবং কোনো পরিবর্তন না করে বর্তমান অবস্থানেই থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলটি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখলেও এক ইঞ্চি হলেও সরে যাবে না।
আইসিসি এই মুহূর্তে বিকল্প ব্যবস্থা অনুসন্ধান করছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। সংস্থা উল্লেখ করেছে, টুর্নামেন্টের সময়সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হলেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সম্ভব হতে পারে।
বিসিবি পূর্বে জানিয়েছিল, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারতীয় মাটিতে যাত্রা না করার মূল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, আইসিসিকে ম্যাচগুলোকে ভারতের বাইরে স্থানান্তর করার অনুরোধও করা হয়েছে।
আইসিসি পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, টুর্নামেন্টের সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত এবং বিসিবি যেন তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে। তবে বিসিবি এই আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করে এবং তার পূর্বের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
বৈঠকে উল্লিখিত হয়েছে, আসন্ন সিরিজের বেশ কয়েকটি ম্যাচের স্থান পূর্বে ভারতীয় শহরে নির্ধারিত ছিল। এই ম্যাচগুলো ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মূলবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিবি নিরাপত্তা উদ্বেগের পটভূমিতে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক অঞ্চলের অস্থিরতা ও সম্ভাব্য হুমকিগুলি দলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ভ্রমণ না করা দলীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আইসিসি বিকল্প হিসেবে নিরপেক্ষ দেশ বা ত্রিপক্ষীয় ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য স্থানগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশ উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এই পরিস্থিতি ভক্ত, সম্প্রচার সংস্থা এবং স্পনসরদের ওপরও প্রভাব ফেলবে। ম্যাচের স্থানান্তর হলে টিকিটের ব্যবস্থা, সম্প্রচার সময়সূচি এবং বিজ্ঞাপন চুক্তিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হতে পারে।
বিসিবি ও আইসিসি উভয়ই জানিয়েছে, আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান এবং উভয় পক্ষই সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও বৈঠক ও পরামর্শের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকের পর বিসিবি আবারও তার অবস্থান অপরিবর্তিত রাখার কথা পুনরায় জোর দেয়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দিয়ে দলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইসিসি পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও লজিস্টিক্সের জটিলতা বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তবে উভয় সংস্থা একে অপরের অবস্থানকে সম্মান করে সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
পরবর্তী সপ্তাহে আরও আলোচনা নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য বিকল্প ভেন্যু ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশদ বিবরণ নিয়ে মতবিনিময় হবে। উভয় সংস্থা এই আলোচনাকে শেষ পর্যন্ত সমাধানমুখী রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



