শারিয়তপুর সদর উপজেলা থেকে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসে রোগী স্থানান্তরের পথে অ্যাম্বুলেন্সে বাধা সৃষ্টির ফলে ৭০ বছর বয়সী জামশেদ আলী ঢালি মারা গেছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেল প্রায় তিনটায় ঘটেছে এবং স্থানীয় পুলিশ ও পরিবারের বিবরণে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোগী শারিয়তপুরের কুতুবপুর এলাকায় হঠাৎ অস্বস্তি অনুভব করে শারিয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। জরুরি বিভাগে স্ট্রোকের সন্দেহে রোগীকে উন্নত সেবা পাওয়ার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পরিবার স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ৬,৫০০ টাকার চুক্তি করে রোগীকে গাড়িতে লোড করে। তবে গাড়ি চলার পরই কিছু স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স গোষ্ঠীর সদস্যরা অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা না দিলে রোগীকে ঢাকা না নিয়ে যাওয়া হবে বলে দাবি করেন।
অতিরিক্ত অর্থের দাবি প্রত্যাখ্যানের পর পরিবার আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য পাঁচ হাজার টাকার ব্যবস্থা করে। রোগীকে হাসপাতালে থেকে চৌরাঙ্গি পর্যন্ত ব্যাটারি চালিত অটো-রিকশা দিয়ে নিয়ে গিয়ে নতুন অ্যাম্বুলেন্সে লোড করা হয়।
প্রস্থান করার কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্সটি শারিয়তপুর সদর এলাকার প্রিমতলা এলাকায় থামানো হয়। গোষ্ঠীর সদস্যরা গাড়ি থামিয়ে অতিরিক্ত অর্থের দাবি পুনরায় জানায়, ফলে গতি আটকে যায়।
এরপর জাজিরা উপজেলা জামতলা এলাকায় আবার বাধা সৃষ্টি হয়। সেখানে গোষ্ঠীর সদস্যরা দুইটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে বাধা গড়ে তোলেন এবং চালক ও সহকারীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন। পরিবার ও সাক্ষীরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।
স্থানীয় কিছু ব্যক্তির হস্তক্ষেপে বাধা শেষ হয় এবং গাড়ি আবার চলতে পারে। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটায় এবং ঢাকা পৌঁছানোর পথে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে রোগী মারা যান।
ঢাকার বাংলা মোটর এলাকায় গাড়ি থামিয়ে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের চিকিৎসকরা রোগীর মৃত্যু ঘোষণা করেন।
শারিয়তপুরের পালং মডেল থানা অফিসার-ইন-চার্জ শা আলম ঘটনাটির তথ্য পুলিশকে জানিয়ে দেন। পরিবারও একই রাতে থানায় মৌখিকভাবে ঘটনাটি রিপোর্ট করে।
স্বাস্থ্য সেবা ক্ষেত্রে জরুরি পরিবহন সেবার স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। রোগীর জীবন রক্ষার জন্য সময়মত ও বাধাহীন পরিবহন নিশ্চিত করা উচিত, এবং অনধিকারিক গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি।



