গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজ (১৩ জানুয়ারি, ২০২৬) সরকারী ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। কমিশনকে ২০২১ সালে গুম মামলায় বাড়তে থাকা অভিযোগের পর গঠিত করা হয়েছিল এবং তার কাজের সময়কালে ১,২৮৯টি গুম ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবেদনে গুমের কারণ, সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধের জন্য প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গুমের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তথ্যের অভাব, দেরি করা তদন্ত এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের অপ্রতুল সমন্বয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপ্রয়োজনীয় দেরি গুমের পরিণতি বাড়িয়ে তুলেছে। কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত সুপারিশের মধ্যে রয়েছে গুম ঘটনার রেকর্ডিং সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয়করণ, দ্রুত তদন্তের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন এবং গুমের শিকারদের পরিবারকে সরাসরি সহায়তা প্রদান।
প্রকাশের পরই বিরোধী দলগুলো প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করে। তারা উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুমের প্রতিবাদ আন্দোলন দ্রুত শেষ করতে পারতেন, যদি তিনি সময়মতো তথ্য প্রকাশ করতেন এবং সংশ্লিষ্ট নীতি পরিবর্তন করতেন। বিরোধীরা দাবি করে, গুমের শিকারদের পরিবারকে যথাযথ সমর্থন না দিয়ে সরকার তাদের কণ্ঠস্বর দমন করেছে।
অন্যদিকে, সরকার গুম সংক্রান্ত তদন্তের পাশাপাশি অন্যান্য নীতি বিষয়েও পদক্ষেপ নিয়েছে। রায় ট্রাইব্যুনাল মোবাইল ফোনের আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দেয়া হয়েছে, যা বাজারে স্মার্টফোনের দাম কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুল্ক হ্রাসের ফলে গড়ে ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাবে, যা ভোক্তাদের জন্য স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন ক্রয় সহজ করবে।
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে। সরকারী পক্ষের মতে, এই প্রতিবেদন গুমের শিকারদের পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রদান এবং ভবিষ্যতে গুমের ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে। বিরোধী দলগুলো তবু দাবি করে, সরকারকে গুমের শিকারদের জন্য ত্বরিত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, গুমের শিকারদের পরিবার এবং সমর্থক গোষ্ঠী এখন সরকারকে জবাবদিহি করতে চায়, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে। একই সঙ্গে, শুল্ক হ্রাসের ফলে মোবাইল বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভোক্তাদের জন্য সুবিধা সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারী সাইটে PDF ফরম্যাটে উপলব্ধ এবং যে কেউ তা ডাউনলোড করে বিস্তারিত পড়তে পারবেন। প্রতিবেদনের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার গুমের শিকারদের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো গুমের শিকারদের পরিবারকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, তবে গুমের মূল কারণগুলো সম্পূর্ণরূপে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক অশান্তি বজায় থাকবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাজের ফলাফল এবং সরকারী পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কীভাবে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করবে, তা আগামী সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হবে।



