ঢাকা শহরের উত্তরা টঙ্গী ব্রিজের নিকটস্থ শিল্প গ্রাহকের সেবা লাইনের ভাল্ভ ফেটে উচ্চচাপ গ্যাস লিকেজ ঘটেছে, ফলে উত্তরা, উত্তরের খান, দক্ষিণের খান এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ করা হয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি (তিতাস গ্যাস) এই ঘটনার তথ্য মঙ্গলবার রাতের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। এই ঘটনা দুই সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বার ঘটেছে, যা গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ভাল্ভটি গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং পাইপলাইনের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা থাকে। এইবারের ফাটল উচ্চচাপের গ্যাসকে লিক করে মূল ১২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনকে শাটডাউন করতে বাধ্য করেছে, ফলে উত্তরা, উত্তরের খান, দক্ষিণের খান এবং আশেপাশের এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ স্থগিত হয়েছে। তিতাস গ্যাসের টেকনিক্যাল দল দ্রুত লিকেজের স্থান সনাক্ত করে, ক্ষতিগ্রস্ত ভাল্ভের পরিবর্তন কাজ শুরু করেছে।
তিতাস গ্যাসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল পাইপলাইন শাটডাউন করা হয়েছে এবং ভাল্ভের প্রতিস্থাপন কাজ চলমান। এই কাজের সময় গ্যাসের সরবরাহে সাময়িক বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত সেবা পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ঢাকার গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি ইতিমধ্যে চ্যালেঞ্জের মুখে। গত এক মাসে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, দাম দ্বিগুণ হলেও চাহিদা মেটাতে পারছে না। নিয়মিত পাইপলাইন দুর্ঘটনা এই ঘাটতিকে বাড়িয়ে তুলছে, যা গৃহস্থালী ও শিল্পখাতে বিকল্প জ্বালানির চাহিদা বাড়াচ্ছে।
গত ৪ জানুয়ারি তুরাগ নদীর নিচে পাইপলাইন ছিদ্র হওয়ায় মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন দেখা যায়। এরপর ১০ জানুয়ারি গণভবনের সামনে একটি ভাল্ভ ফেটে সরবরাহ বন্ধ হয়, ফলে গ্রাহকদের অস্থায়ী অসুবিধা হয়। একই রাতে নতুন ভাল্ভ বসিয়ে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিক ঘটনার ফলে গ্যাস সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে গ্যাস সরবরাহের বাধা সরাসরি গৃহস্থালী ও ব্যবসায়িক খরচে প্রভাব ফেলে। গ্যাসের অভাবে রেস্তোরাঁ, হোটেল, হাসপাতাল ও উৎপাদন ইউনিটগুলো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, যা অতিরিক্ত খরচের সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে, গ্যাসের ঘাটতি এলপিজি চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে দাম আরও উঁচুতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি ভোক্তা মূল্যস্ফীতি এবং ব্যবসায়িক লাভের মার্জিনকে চাপের মুখে ফেলতে পারে।
তিতাস গ্যাসের জন্য এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা অপারেশনাল ও আর্থিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। সরবরাহ বন্ধের সময় গ্রাহকদের থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনরায় সংযোগের খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোম্পানির শেয়ার মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এই ধরনের ঝুঁকি বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাল্ভ, সিল এবং পাইপলাইন সেকশনের নিয়মিত পরীক্ষা, স্বয়ংক্রিয় লিকেজ সনাক্তকরণ সিস্টেমের স্থাপন এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা গড়ে তোলা নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। তিতাস গ্যাসের উচিত এই পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখা।
সারসংক্ষেপে, উত্তরা টঙ্গী ব্রিজের কাছে ঘটিত গ্যাস লিকেজের ফলে মূল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে বহু এলাকায় সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে, যা গৃহস্থালী ও শিল্পখাতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তিতাস গ্যাসের জন্য এটি অপারেশনাল ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের সূচক, এবং ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য।



