রাজেন্দ্রপুরে রেললাইন চলার সময় একটি ট্রেনের বন্ধ দরজার বাইরে এক হকার ঝুলে পড়ে গুরুতর আঘাত পায়। ঘটনাটি সোমবার সন্ধ্যায় রেলপুলিশের নজরে আসে এবং আহতকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হকারটি মাথার ওপর পানির বোতল ও জুসের গামলা নিয়ে দরজার বাইরে ঝুলে ছিল এবং ট্রেন থামানোর জন্য বারবার অনুরোধ করছিল। ট্রেনটি ধীর গতিতে সেতু পার হচ্ছিল, তখন হকারটি দরজা খুলতে চেষ্টা করে, তবে রেলকর্মীরা তা অনুমোদন করেনি।
রেলপুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হকারের নাম হৃদয়, গফরগাঁওয়ের রাগাইচটির আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি ভাঙাব্রিজ এলাকা থেকে ট্রেনের বন্ধ দরজায় ঝুলে পড়েন এবং ট্রেন চলতে শুরু করলে দরজা খুলতে কর্মীদের কাছে আবেদন করেন।
দরজা না খোলার ফলে হৃদয়ের হাত-পা ব্যথা বাড়ে, ফলে তিনি ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন। পড়ার সময় তার মাথায় আঘাত লেগে আটটি সেলাই প্রয়োজন হয়, পাশাপাশি হাতে ও পায়েও ক্ষত হয়। আহতকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং পরে ড্রেসিং করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে রেলপুলিশের ঢাকা রেলওয়ে জেলার এসপি আনোয়ার হোসেনের মতে, ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়।
এসপি জানান, ট্রেনটি যখন ধীর গতিতে সেতু পার হচ্ছিল, তখন হকারটি দরজার বাইরে ঝুলে ছিল এবং ভেতরের যাত্রী ও রেলকর্মীরা দরজা খুলতে অস্বীকার করায় তিনি আত্মরক্ষার জন্য লাফিয়ে পড়েন। তার মাথায় গামলা ও পানির বোতলসহ প্রায় ২৫-৩০ কেজি ওজনের জিনিসপত্র ঝুলে ছিল।
হকারটি দরজার হাতলে এক হাতে ধরে কাতর হয়ে চিৎকার করছিল, আর ভেতরের কেউ তাকে “আবু” বলে সম্বোধন করে, যাতে তিনি ভারি জিনিস ফেলে দেন। দরজা খোলার চেষ্টা করা কয়েকজনের মধ্যে হৃদয়ও ছিলেন, তবে রেলকর্মীরা অন্য বগিতে থাকায় ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ জানেননি।
রেলপুলিশের মতে, হকারের আচরণ ও দরজা না খোলার ফলে ঘটনার গুরুতরতা বেড়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, বন্ধ দরজা থেকে কোনো বস্তু বের করা বা দরজা খোলার অনুরোধে রেলকর্মীদের অনুমতি দিতে হবে, না হলে দায়িত্বশীল কর্মীকে শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। রেলপুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীদের কাছ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি নেওয়া হবে।
অধিক তথ্যের জন্য রেলপুলিশের অফিসিয়াল হেল্পলাইন ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘটনাটি রেলযাত্রীর নিরাপত্তা ও রেলকর্মীদের দায়িত্ববোধের ওপর প্রশ্ন তুলেছে, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সূচনা হতে পারে।



