সিবিএস ইভনিং নিউজের নতুন অ্যাঙ্কর টনি ডোকুপিল ডেট্রয়েট, মিশিগানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। ডোকুপিল ফোর্ডের ডিয়ারবর্ন কারখানায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে ইরান, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছেন।
ডোকুপিলকে এক মাস আগে সিবিএসের অ্যাঙ্কর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়, যা নেটওয়ার্কের সম্পাদক-ইন-চিফ বারি ওয়েসের প্রথম বড় প্রোগ্রামিং পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। তার শুরুর দিনগুলোই কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হয়, যেখানে টেলিপ্রম্পটের ত্রুটি দেখা দেয়; তবে এই ত্রুটি পশ্চিম উপকূলের সম্প্রচারের জন্য সংশোধন করা হয়।
প্রথম সপ্তাহের রেটিংয়ে সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও, সিবিএসের শো এখনও এবিসি ও এনবিসির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। দর্শকসংখ্যা বাড়াতে চ্যালেঞ্জের মুখে নেটওয়ার্কটি বিভিন্ন সম্পাদনামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে কিছু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একটি আলোচনায় মার্কো রুবিওকে ফ্লোরিডার বহু কাজের ধারক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে তাকে “ফ্লোরিডার সর্বোচ্চ চরিত্র” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মিনিয়াপোলিসে আইসিই শুটিংয়ের পরিণতি নিয়ে একটি মন্তব্যের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এই ধরনের বিষয়বস্তু কিছু দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা, আবার অন্যদের কাছ থেকে সমালোচনা পেয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের প্রত্যাশা উচ্চ, কারণ প্রেসিডেন্টের মিশিগানের ফোর্ড কারখানা পরিদর্শন এবং পরে ডেট্রয়েট ইকোনমিক ক্লাবে বক্তব্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ডোকুপিল এই সাক্ষাৎকারটি জেনারেল মোটর্সের সদর দফতরে সরাসরি সম্প্রচার করবেন, যা তার নতুন শোকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেবে।
সম্পাদক-ইন-চিফ বারি ওয়েসের মতে, ইভনিং নিউজের পুনরুজ্জীবনের জন্য কর্মীদের এমন বিষয়বস্তু তৈরি করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে যা দ্রুত ভাইরাল হতে পারে এবং দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে নেটওয়ার্ককে “সংবাদ হতে হবে” এবং এজন্য কখনও কখনও মিম-ভিত্তিক হালকা বিষয়বস্তু এবং কখনও গভীর বিশ্লেষণমূলক সাক্ষাৎকারের সমন্বয় প্রয়োজন।
ডোকুপিলের সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে কোলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পোলিসের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারও অন্তর্ভুক্ত, যা তার দেশের বিভিন্ন অংশে ট্যুরের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে পোলিসের রাজ্যের নীতি ও জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সিবিএসের শো পুনর্গঠন একই সময়ে ৬০ মিনিটের একটি প্রতিবেদন নিয়ে উত্থাপিত বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও নির্দিষ্ট গন্তব্যে ডিপোর্টেশন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওয়েস এই বিষয়টি সামলাতে ব্যস্ত, যা শোয়ের সামগ্রিক কৌশল ও বিষয়বস্তুর দিকনির্দেশনা প্রভাবিত করছে।
ডোকুপিলের ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পরিকল্পনা সিবিএসের নতুন দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি নেটওয়ার্কের রেটিং বাড়াতে এবং রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে, ডেট্রয়েটের এই সাক্ষাৎকারের ফলাফল সিবিএসের ইভনিং নিউজের অবস্থানকে কীভাবে পরিবর্তন করবে এবং দর্শকদের মনোভাবকে কীভাবে গঠন করবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



