27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিক২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ, জাতিসংঘের রিপোর্ট

২০২৫ সালে ইউক্রেনে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ, জাতিসংঘের রিপোর্ট

ইউক্রেনের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন ২০২৫ সালে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানায়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংঘর্ষ‑সংশ্লিষ্ট হিংসা কমপক্ষে ২,৫১৪ জন বেসামরিককে প্রাণ হারাতে বাধ্য করেছে, যা ২০২৪ সালের ২,০৮৮ এবং ২০২৩ সালের ১,৯৭৪ সংখ্যার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সময়ে আহতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে, যা মানবিক সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করে।

বছরের সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী আক্রমণটি নভেম্বর মাসে টের্নোপিল শহরে ঘটেছে। ঐ ঘটনার ফলে অন্তত ৩৮ জন বেসামরিক, যার মধ্যে আটজন শিশু, নিহত হয়। এই ঘটনা দেশের পশ্চিমাঞ্চলে রক্তক্ষয় বৃদ্ধি করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে তীব্র করে তুলেছে।

উক্ত সময়ে রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি রাশিয়ার রাতারাতি আক্রমণকে উল্লেখ করে জানান, খারকিভে চারজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং কিয়েভ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শীতল তাপমাত্রার মধ্যে শত শত হাজার গৃহস্থালী বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছে। এই বিদ্যুৎ ঘাটতি দেশের মৌলিক সেবা ও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

২০২৫ সালের মোট বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ও আহতের সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় যথাক্রমে ৩১% এবং ৭০% বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের মিশন পূর্বে জানিয়েছিল যে, রাশিয়া ফেব্রুয়ারি ২০২২‑এ পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার পর প্রথম বার্ষিক পর্যায়ে ৮,০০৬ জন বেসামরিক নিহত এবং ১৩,২৮৭ জন আহত হয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে ১৪,৫৩৪ জন বেসামরিকের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের তথ্যগুলো বেসামরিক সুরক্ষার অবনতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। তিনি বলেন, এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল সামনের লাইন বরাবর হিংসার তীব্রতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘপরিসরের অস্ত্রের ব্যবহার, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নাগরিকদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক রাতারাতি আক্রমণে প্রায় ৩০০টি ড্রোন, ১৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং সাতটি ক্রুজ মিসাইল শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে কিয়েভ অঞ্চলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে। এই আক্রমণগুলো শীতের তীব্রতায় জনগণের জীবনযাত্রা ও মৌলিক সেবাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, আকাশ রক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল এবং আক্রমণের সময় বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেম কাজ করেছে। তবে শক্তি সরবরাহের গুরুতর বিঘ্নের ফলে শহরের বেশিরভাগ এলাকা জরুরি বন্ধের অবস্থায় চলে যায়। এনার্জি কোম্পানি ইয়াসনোর সিইও উল্লেখ করেন, শূন্য তাপমাত্রায় জরুরি শাটডাউন চালু করা হয়েছে এবং অগ্নি নির্বাপক দল ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা আগুন নেভাতে ও বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করতে কাজ করে যাচ্ছে।

বিদেশ মন্ত্রী রাশিয়ার উপর এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে অভিযুক্ত করেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোকে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধিরা রাশিয়ার দীর্ঘপরিসরের অস্ত্র ব্যবহারকে “অবৈধ এবং মানবিক বিপর্যয়” হিসেবে সমালোচনা করে, একই সঙ্গে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর জন্য নিরাপত্তা গ্যারান্টি চায়।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আসন্ন বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনার সূচিতে রয়েছে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি হিংসা অব্যাহত থাকে তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হবে। একই সঙ্গে, মানবিক সংস্থাগুলো বেসামরিকদের জন্য তাত্ক্ষণিক সুরক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত সমন্বয় দাবি করছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments