27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরওনক জাহান ও বিএনপি নেতার বক্তব্যে নাগরিকের প্রত্যাশা ও হানিমুন পিরিয়ডের প্রশ্ন...

রওনক জাহান ও বিএনপি নেতার বক্তব্যে নাগরিকের প্রত্যাশা ও হানিমুন পিরিয়ডের প্রশ্ন উন্মোচিত

সাম্প্রতিক একটি নাগরিক‑সংলাপে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল জনগণের প্রত্যাশা, গণতন্ত্রের প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতা। উভয় বক্তা দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নাগরিকের অধৈর্য ও সরকারের দায়িত্ববোধের ওপর আলোকপাত করেন।

রওনক জাহান ‘স্টেট অব ডেমোক্রেসি’ গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের ইচ্ছা সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। একই সঙ্গে, একটি প্রশ্নে অধিকাংশ ভোটার সেনাশাসনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন, যা জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে বিদ্যমান বৈপরীত্যকে প্রকাশ করে। তিনি এই দ্বৈততা থেকে বোঝেন, মানুষ একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য সামরিক শাসনকে সমর্থন করে।

অধ্যাপক আরও উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে যখন কোনো দল নির্বাচনে পরাজিত হয়, তখন তারা প্রায়শই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে। এই প্রবণতা আগামী নির্বাচনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন ভোটারদের প্রত্যাশা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তিনি বলেন, ভোটাররা এখন ফলাফল দেখতে বেশি আগ্রহী এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে কম ইচ্ছুক।

জনগণের এই অধৈর্যকে তিনি ‘হানিমুন পিরিয়ড সিনড্রোম’ নামে উল্লেখ করেন, যেখানে সরকার প্রথমে জনপ্রিয়তা অর্জন করে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা সহ্য করতে পারে না এবং স্বৈরাচারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই প্রসঙ্গে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল—বিএনপি, জামায়াত‑ই‑ইসলাম, সিপিবি, এনএসপি, গণফোরাম, এবি পার্টি ও বাসদ—একই মঞ্চে তাদের রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।

সংলাপের আয়োজক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যার মধ্যে হানিমুন পিরিয়ডের পুনরাবৃত্তি রোধের উপায়ও অন্তর্ভুক্ত। তিনি বিশেষভাবে জিজ্ঞাসা করেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো অবস্থা না ঘটার নিশ্চয়তা কীভাবে পাওয়া যাবে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু চৌধুরী জবাব দেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের দীর্ঘ সময় অনির্বাচিত সরকার শাসন করায় জবাবদিহিতা অনুপস্থিত ছিল, যা নাগরিকদের আস্থা ক্ষয় করেছে। এখনই সময়, যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কাজের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস পুনর্গঠন করবে।

খসরু চৌধুরীর মতে, আস্থা পুনরুদ্ধার শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্ভব নয়; বাস্তব পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছতা দরকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাগরিকের মনোভাবের পরিবর্তনকে স্বীকার করে, দলগুলোকে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে ভবিষ্যতে হানিমুন পিরিয়ডের প্রভাব কমে যাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে।

এই আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, নাগরিকের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকরী জবাবদিহিতা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ভোটারদের উচ্চ প্রত্যাশা এবং স্বল্প ধৈর্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সময়মত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বাধ্য করছে।

অবশেষে, রওনক জাহান এবং আমীর খসরু উভয়ই একমত যে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করবে নাগরিকের চাহিদা পূরণে দলগুলোর সক্ষমতার উপর। ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি, নীতি নির্ধারণে নাগরিকের অংশগ্রহণ এবং সরকারের স্বচ্ছতা এই প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments