শিলিন জেলা প্রসিকিউটর অফিস পিট লাউ, OnePlus এর সিইও, এবং দুইজন তাইওয়ানি নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তাইওয়ান থেকে কর্মী নিয়োগের অভিযোগে গ্রেফতার ওয়ারেন্ট জারি করেছে। অভিযোগ অনুসারে, OnePlus হংকং-এ একটি শেল কোম্পানি গঠন করে ২০১৫ সালে তাইওয়ানে একটি শাখা খোলে, যা সরকারী অনুমোদন ছাড়া তাইওয়ানি ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ করে। এই শাখা মূলত OnePlus মোবাইল ফোনের গবেষণা ও উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করত।
প্রসিকিউটর অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শেল কোম্পানির নাম মূল OnePlus ব্র্যান্ড থেকে আলাদা, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি গোপনীয় রাখা সম্ভব হয়। তবে শাখা প্রতিষ্ঠার সময় সরকারী অনুমোদন না পাওয়ায়, এটি ক্রস-স্ট্রেট আইন লঙ্ঘনের সরাসরি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই আইন চীনের কোম্পানিগুলিকে তাইওয়ান থেকে কর্মী নিয়োগের আগে তাইওয়ান সরকারের অনুমতি নিতে বাধ্য করে।
অভিযোগের মূল বিষয় হল OnePlus ৭০টিরও বেশি তাইওয়ানি ইঞ্জিনিয়ারকে অবৈধভাবে নিয়োগ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সংখ্যা কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করা কর্মীদের মোট সংখ্যা নির্দেশ করে, যা আইনগতভাবে অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেছে। দুইজন তাইওয়ানি নাগরিক, যারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদেরও একই সময়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বৈধ ব্যবসা পরিচালনার দৃষ্টিকোণ থেকে, এই মামলাটি OnePlus এর আন্তর্জাতিক সুনাম ও আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রেফতার ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় কোম্পানির শাখা কার্যক্রমে সাময়িক বন্ধের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যা গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নের সময়সূচি বিলম্বিত করতে পারে। তদুপরি, আইনগত শাস্তি হিসেবে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোম্পানির মুনাফা মার্জিনকে চাপ দিতে পারে।
বাজারের প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যে স্পষ্ট। শেয়ারবাজারে চীনা টেকনোলজি স্টকগুলোর ওপর সামান্য নেতিবাচক চাপ দেখা গেছে, বিশেষ করে OnePlus এর মূলধনী অংশীদার ওয়ানপ্লাসের শেয়ার মূল্যে সামান্য হ্রাস রেকর্ড হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ক্রস-স্ট্রেট আইন মেনে না চলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে চীনের অন্যান্য টেক কোম্পানির তাইওয়ান বাজারে প্রবেশের কৌশলকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
এই ঘটনা চীনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ক্রস-স্ট্রেট আইন অনুসরণ না করলে শুধুমাত্র আইনি শাস্তি নয়, বরং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাইওয়ান সরকার এই আইনকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করার সংকল্প প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে চীনের কোম্পানিগুলোর তাইওয়ান কর্মী নিয়োগে অতিরিক্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া যোগ করবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, OnePlus এবং অনুরূপ চীনা টেক সংস্থাগুলোকে স্থানীয় শ্রম আইন মেনে চলা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা জরুরি। আইনি ঝুঁকি হ্রাসের জন্য কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় অংশীদার বা যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করার দিকে ঝুঁকতে হবে, যাতে সরকারী অনুমোদন সহজে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে, ক্রস-স্ট্রেট আইন সংশোধনের সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাবও নজরে রাখতে হবে।
সারসংক্ষেপে, পিট লাউ এবং দুইজন তাইওয়ানি নাগরিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতার ওয়ারেন্ট জারি হওয়া OnePlus এর ব্যবসায়িক কৌশল ও ক্রস-স্ট্রেট সম্পর্কের উপর নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। কোম্পানির দ্রুত আইনি সমাধান ও নিয়ম মেনে চলা ভবিষ্যতে বাজারের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



