জুলাই ২০২২-এ গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রণালয় থেকে শেষ চার মাসে কোনো দায়িত্ব প্রদান না করা নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে তিনি শহিদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর থেকে বাড়ি থেকে বের হননি, কারণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তাকে ঘরে সীমাবদ্ধ রাখে।
মাহফুজ আলম বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার মুখে তিনি এবং তার সহকর্মীরা সরকারী দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন, মন্ত্রণালয় তার সত্যবাদিতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কাজের সুযোগ দেয়নি।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ছোট গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে চালু হয়েছিল। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনকে বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার অপরিহার্য, আর বর্তমান ব্যবস্থা ছোট গোষ্ঠীর সুবিধা প্রদান করে।
মাহফুজ আলম বিদেশ থেকে টাকার প্রবাহকে দূরের বিষয় বলে উল্লেখ করে, দেশীয় দালাল, সম্পদ গঠনকারী এবং মিডিয়া চালু রাখার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, এটাই তার প্রধান অভিযোগ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাঘববয়ালদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিলে সত্যিকারের সংস্কার সম্ভব নয়।
সেমিনারে উপস্থিতদের সামনে তিনি পুনরায় জোর দেন, শেষ চার মাসে তাকে কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, ফলে রাষ্ট্রের সংস্কার কাজ থেমে গেছে। পুরনো বন্দোবস্তের লোকদের অব্যাহত রাখার সঙ্গে নতুন কাঠামো গড়ে তোলা অসম্ভব, এটাই তার মূল বক্তব্য।
মাহফুজ আলমের মতে, জুলাই উত্থানে নেতৃত্বদানকারী অনেকেই এখন পুরনো দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে নতুন বন্দোবস্তের কথা বলছেন, যা তিনি ‘ভূতের মতো উল্টো পথে হাঁটা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই পরিবর্তনকে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থপরতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করেন।
সম্পদের পুনর্বণ্টনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি জুলাই চুক্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা থাকে, তবে এখনো বিপরীতমুখী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন, ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠনই প্রকৃত রাজনৈতিক সমঝোতা, আর সম্পদের ন্যায্য বণ্টন ছাড়া কোনো সংস্কার টেকসই হবে না।
মাহফুজ আলম আরও জানান, জমি বণ্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে জনসাধারণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারকে দ্রুত সম্পদের পুনর্বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য পূরণ হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট না হলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার অর্জন করা কঠিন হবে। পাটওয়ারী বলেন, এই চ্যালেঞ্জের দায়িত্ব প্রধানত তরুণদের উপর, এবং তাদেরই সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
সেমিনারটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। উপস্থিতরা মহফুজ আলমের বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে, দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই আলোচনার পর, অংশগ্রহণকারীরা গণভোটের প্রস্তুতি ও সম্পদ পুনর্বণ্টনের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে কর্মশালা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।



