মন্ত্রীশ্রেষ্ঠ ম্যানসুখ ম্যান্ডাভিয়া এই সপ্তাহে জুমাটোর ব্লিঙ্কিট, সুইগি ইনস্টামার্ট এবং জেপটোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি দ্রুত-কমার্স কোম্পানিগুলোরকে ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি বাদ দিয়ে ডেলিভারি কর্মীদের স্বাস্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলেছিলেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হল গিগ কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং অতিরিক্ত সময়সীমা পূরণের জন্য ঝুঁকি বাড়া রোধ করা।
ভারতে দ্রুত-কমার্স বাজার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশাল গতি পেয়েছে। নগর এলাকায় গ্রাহকরা এখন প্লে স্টেশন ৫ থেকে তাজা সবজি পর্যন্ত সবকিছু মাত্র ১০‑১৫ মিনিটের মধ্যে পেতে অভ্যস্ত। এই চাহিদা মেটাতে জেপটো, ব্লিঙ্কিট এবং ইনস্টামার্টের মতো কোম্পানি শহরের বিভিন্ন পাড়া-প্রান্তে “ডার্ক স্টোর” নামে গোপন গুদাম স্থাপন করেছে, যেখানে পণ্যগুলো দ্রুত সংগ্রহ করে ডেলিভারি কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই মডেলকে সমর্থন করতে কোম্পানিগুলো শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং ডেলিভারি কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজারের বিস্তার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের উপর চাপ বাড়ছে। নতুন বছরের আগের রাতে, দেশের প্রধান শহরগুলোতে ২ লক্ষেরও বেশি গিগ কর্মী একসাথে প্রতিবাদে অংশ নেন। তারা আইনগত সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা, বেতন বৃদ্ধি এবং দেরি ডেলিভারির জন্য স্বয়ংক্রিয় পেনাল্টি সিস্টেমে পরিবর্তনের দাবি জানায়।
প্রতিবাদকারীরা উল্লেখ করেন যে, স্বল্প সময়সীমা পূরণের জন্য ডেলিভারি কর্মীরা প্রায়ই ট্রাফিকের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ গতিতে চলতে বাধ্য হন, যা দুর্ঘটনা এবং শারীরিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে মানবসম্পদ পরামর্শদাতা প্রভীর ঝা, প্রাবির ঝা পিপল অ্যাডভাইজরি প্রতিষ্ঠানের সিইও, বলেন, “১০‑১৫ মিনিটের অতিদ্রুত ডেলিভারি মডেল গিগ কাজের ঝুঁকি এবং চাপের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।” তিনি কর্মীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের পর ব্লিঙ্কিট ইতিমধ্যে ১০‑মিনিট ডেলিভারি প্রতিশ্রুতির বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলেছে। কোম্পানি এখন আরও বাস্তবসম্মত সময়সীমা উল্লেখ করে গ্রাহকদের জানাচ্ছে যে ডেলিভারির সময় ট্রাফিক, আবহাওয়া এবং পণ্যের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল। অন্যান্য দুই কোম্পানিও একই ধরনের পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, দ্রুত-কমার্সের এই ধরণের নিয়ন্ত্রক চাপ বাজারের গতি ধীর করতে পারে, তবে কর্মীর কল্যাণের দিক থেকে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যদি কোম্পানিগুলো নিরাপত্তা ও বেতন সংক্রান্ত চাহিদা পূরণে অগ্রসর হয়, তবে গিগ কর্মীর টার্নওভার কমে এবং সেবা মান উন্নত হতে পারে। অন্যদিকে, ডেলিভারি সময়ের ওপর কঠোর সীমা না থাকলে গ্রাহকের প্রত্যাশা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, যা বিক্রয় ও বাজার শেয়ারকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, শ্রম মন্ত্রীর উদ্যোগ গিগ কর্মীর নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার দিকে দৃষ্টিপাত করে, এবং দ্রুত-কমার্স কোম্পানিগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক মডেল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে গ্রাহকের অভিজ্ঞতা, কোম্পানির লাভজনকতা এবং কর্মীর কল্যাণে প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



