হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমার রেকর্ডে জানিয়েছেন, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে কংগ্রেসের অবমাননা মামলা দায়ের করা হবে, কারণ তিনি জেফ্রি এপস্টেইনের তদন্ত কমিটিতে মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হননি। এপস্টেইন, যিনি মৃত্যুদণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিটি উভয় ক্লিনটনকে সমন্বিতভাবে ডেকেছিল।
কমিটি ইতিমধ্যে বিল ও হিলারি ক্লিনটনের উভয়ের জন্য সমন্বিত সমন, যা তাদেরকে এপস্টেইনের সাথে যুক্ত বিষয়গুলোতে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করে। তবে, বিল ক্লিনটনের অনুপস্থিতি এবং হিলারি ক্লিনটনের সম্ভাব্য অমিলের কারণে কমিটি অবমাননা প্রক্রিয়া চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কমার উল্লেখ করেন, বিল ক্লিনটনের অনুপস্থিতি পরবর্তী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক অবমাননা প্রক্রিয়ার সূচনা করবে। একই সঙ্গে, হিলারি ক্লিনটন যদি সমন অনুযায়ী প্রশ্নের উত্তর না দেন, তবে তার বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কমিটির লক্ষ্য হল এপস্টেইনের অপরাধ ও তার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা।
বিল ক্লিনটনের আইনজীবীরা সমনকে ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত করে, এবং দাবি করেন যে তারা ইতিমধ্যে এপস্টেইন সংক্রান্ত সীমিত তথ্য সরবরাহ করেছে। তাদের মতে, অতিরিক্ত তথ্যের চাহিদা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয় এবং সমনটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
হিলারি ক্লিনটনের প্রতিনিধিরাও একই রকম যুক্তি পেশ করে, উল্লেখ করেন যে তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করেছে এবং অতিরিক্ত সমনকে অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করে। উভয় পক্ষের আইনজীবী দল সমনকে ‘অনুপালনযোগ্য’ বলে দাবি করে, যা কমিটিকে তাদের দাবিগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
কমিটির এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। অবমাননা মামলা কংগ্রেসের তত্ত্বাবধান ক্ষমতা এবং নির্বাহী শাখার সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে, যদি হিলারি ক্লিনটনও সমন না মানেন, তবে এটি পার্টি-ভিত্তিক বিরোধকে তীব্র করে তুলতে পারে।
অধিকন্তু, এই ঘটনা ভবিষ্যতে সমন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও সীমা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। কংগ্রেসের সদস্যরা এখনো স্পষ্ট করে না যে তারা কী ধরনের শাস্তি আরোপ করবে, তবে অবমাননা প্রক্রিয়া চালু করা মানে তারা সমন মানতে ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
বিল ক্লিনটনের অনুপস্থিতি এবং হিলারি ক্লিনটনের সম্ভাব্য অমিলের পরিপ্রেক্ষিতে, কমিটি এখনো সমনকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পথে রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল কংগ্রেসের তত্ত্বাবধান ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ তদন্তের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, হাউস ওভারসাইট কমিটি বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অবমাননা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং হিলারি ক্লিনটনকে সমন মানতে না পারলে একই ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষের আইনজীবী দল সমনকে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করলেও, কমিটি এই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



