হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশ ৯৫ নম্বরে উঠে, পাঁচ ধাপের উন্নতি অর্জন করেছে। এই র্যাঙ্কিং অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন ভিসা‑ফ্রি অথবা অন‑অ্যারাইভাল সুবিধা নিয়ে ৩৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবে। সূচকটি অক্টোবর ২০২৫‑এ প্রকাশিত হয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়।
পূর্বে একই সূচকে বাংলাদেশ ১০০তম স্থানে ছিল, যা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৪ সালের র্যাঙ্কিংয়ের তুলনায় পাঁচ স্থান উপরে। র্যাঙ্কিং পরিবর্তনটি মূলত ভিসা‑শর্তের শিথিলকরণ এবং নতুন গন্তব্যের অন্তর্ভুক্তির ফলে ঘটেছে। এই উন্নতি দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ভ্রমণ নীতির আধুনিকীকরণের ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রতি বছর পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে, যেখানে প্রতিটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি নির্ধারণে ভিসা‑শর্ত, ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দ্য এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিবেচনা করা হয়। আইএটিএর ডেটা ব্যবহার করে গন্তব্যের ভিসা‑প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী পয়েন্ট প্রদান করা হয়। ফলে সূচকটি ভ্রমণকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে পাসপোর্টের ব্যবহারিক মূল্যকে প্রতিফলিত করে।
র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি কেবল সংখ্যাত্মক অগ্রগতি নয়, এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এখন বাংলাদেশ ভিসা‑শর্তে সমান বা উন্নত অবস্থানে রয়েছে, যা বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সম্ভাবনা বাড়াবে। বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে ভিসা‑নিয়মের সামঞ্জস্যতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নতুন সূচক অনুযায়ী ভিসা‑ফ্রি বা অন‑অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া গন্তব্যগুলো হল: বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে আইল্যান্ডস, কোমোরো আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি‑বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, মোজাম্বিক, নেপাল, নিউয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, দ্য বাহামাস, দ্য গাম্বিয়া, তিমুর লেস্তে, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভালু এবং ভানুয়াতু।
এই তালিকায় কিছু দেশ শুধুমাত্র অন‑অ্যারাইভাল ভিসা প্রদান করে, অর্থাৎ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিসা সংগ্রহ করা যায়। অন্যদিকে কয়েকটি গন্তব্যে আগেই ই‑ভিসা আবেদন করতে হয়, যা অনলাইন পোর্টাল থেকে সহজে সম্পন্ন করা যায়। ভিসা‑প্রক্রিয়ার এই বৈচিত্র্য ভ্রমণ পরিকল্পনাকে নমনীয় করে এবং শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনেও সহায়তা করে।
একজন কূটনীতিকের মতে, “পাসপোর্ট সূচকের এই উন্নতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের সরাসরি ফল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভিসা‑শর্তের শিথিলকরণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং পর্যটন প্রচারমূলক নীতির সমন্বয়ে সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও দেশকে ভিসা‑ফ্রি তালিকায় যুক্ত করার জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরিকল্পনা চলছে।
ভিসা‑শর্তের এই পরিবর্তন বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করবে। বিশেষত শিক্ষার্থী, কর্মসংস্থান অনুসন্ধানকারী এবং বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা সহজে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ফলে দেশের রেমিট্যান্স আয় এবং বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশ ভিসা‑শর্তে সিঙ্গাপুর, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উচ্চ র্যাঙ্কিং দেশগুলোর কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও এখনও কিছু উন্নত দেশ থেকে ভিসা‑শর্ত বজায় আছে, তবে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন র্যাঙ্কিংকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।
পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচকে ৯০ নম্বরের নিচে নামা এবং ভিসা‑ফ্রি গন্তব্যের সংখ্যা ৪৫টি পর্যন্ত বাড়ানো নির্ধারিত হয়েছে। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সরকারকে ই‑ভিসা সিস্টেমের গতি বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংযোগকে শক্তিশালী করতে হবে। শেষ পর্যন্ত, পাসপোর্টের শক্তি বাড়লে দেশের গ্লোবাল ইমেজ উন্নত হবে এবং নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে চলাচল সহজ হবে।



