গতকাল বাংলাদেশ‑চীন ফ্রেন্ডশিপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে শ্রমিক অধিকার গোষ্ঠী একটি ১৫‑ধারার ম্যানিফেস্টো উপস্থাপন করে, যেখানে রাজনৈতিক দল ও মূল স্টেকহোল্ডারদের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে শ্রমিকের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় শ্রমিক অধিকার সমর্থন জোট (National Workers’ Rights Advocacy Alliance) এর অধীনে ম্যানিফেস্টোটি প্রকাশ করা হয়, এবং অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ম্যানিফেস্টোর উদ্বোধনী বক্তব্যে জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (BILS) এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সাইয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “Those who rise to state power on the sacrifices of workers must not forget their rights,” এবং উল্লেখ করেন যে সরকার পরিবর্তনের পর শ্রমিকের অধিকার প্রায়শই উপেক্ষিত হয়।
আহমেদ আরও জানান, শ্রমিকরা এখনও চাকরির অনিশ্চয়তা, কম বেতন এবং অপর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষার মুখোমুখি। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য আইনগত স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
ম্যানিফেস্টোর মূল দাবি গুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রম আইন সংশোধন, যাতে সকল কর্মীর জন্য আইনি স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, এবং একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা, যা শ্রমিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মানদণ্ড গড়ে তুলবে।
কর্মস্থলের নিরাপত্তা বাড়াতে কঠোর ব্যবস্থা, শিল্প দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উচ্চতর ক্ষতিপূরণ, এবং কর্মস্থল ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের প্রস্তাবও ম্যানিফেস্টোতে অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শ্রমিক পরিবারকে খাবার, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করার দাবি করা হয়েছে।
সমষ্টিগত দরকষাকষি ও সমিতি গঠনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য, ম্যানিফেস্টোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা, কর্মস্থলে হয়রানি ও হিংসা নির্মূল করা, এবং সকল নারী শ্রমিকের জন্য ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান করার প্রস্তাবও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশগত পরিবর্তন, স্বয়ংক্রিয়তা এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য একটি জাতীয় স্থায়ী শ্রম কমিশন গঠন করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে শ্রমিক সংকট সমাধান ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য ও জোটের সমাবেশকারী নাজরুল ইসলাম খান, যিনি এই ম্যানিফেস্টোর সমর্থনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি উল্লেখ করেন যে শ্রমিকের অধিকারকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
এই ম্যানিফেস্টোর প্রকাশের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে শ্রমিকের দাবিগুলোকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে গ্রহণ করতে চাপ বাড়বে, এবং পরবর্তী সপ্তাহে বিভিন্ন পার্টির নীতি দল গঠন প্রক্রিয়ায় এই বিষয়গুলো কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে তা দেখা যাবে।
শ্রমিক অধিকার গোষ্ঠীর এই উদ্যোগ দেশের শ্রম নীতি পুনর্গঠন এবং শ্রমিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ভিত্তি স্থাপনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



