বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল ট্রফি, ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, বুধবার সকালেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এটি ফিফা বিশ্বকাপ ট্যুরের অংশ হিসেবে নির্বাচিত ভক্ত ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে উপস্থাপিত হবে। ট্রফির আগমন দেশের ফুটবল উত্সাহীদের জন্য এক অনন্য সুযোগ এনে দেবে।
ট্রফি হেজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর, ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ বিজয়ী ও ফিফা অ্যাম্বাসেডর গিলবের্তো দা সিলভা তার সঙ্গে থাকবে। গিলবের্তো দা সিলভা ট্রফিটিকে সরাসরি হোটেল রেডিসন ব্লুতে নিয়ে যাবে, যেখানে দুপুরের পর থেকে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী শুরু হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবহন পরিকল্পনা পূর্বেই নির্ধারিত, যাতে ট্রফি নিরাপদে এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছায়।
গিলবের্তো দা সিলভা, যিনি ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, ফিফা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এই ট্যুরে অংশগ্রহণ করছেন। তার উপস্থিতি ট্রফির মর্যাদা বাড়িয়ে তুলবে এবং ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা জাগাবে। গিলবের্তোর সঙ্গে ট্রফি নিয়ে যাওয়া দলটি স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
ফিফা ও তার পানীয় অংশীদার কোকা-কোলা ৩ জানুয়ারি সৌদি আরবের রিয়াদে ট্যুরের সূচনা করেছে। ইতালির কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো ডেল পিয়েরো সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রফি উন্মোচন করেন। এরপর থেকে ট্যুরটি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দেশে গিয়ে ভক্তদের সামনে ট্রফি উপস্থাপন করছে। রিয়াদ থেকে শুরু হওয়া এই সফরটি বিশ্বব্যাপী ৩০টি ফিফা সদস্য সংস্থা, মোট ৭৫টি স্টপে পৌঁছেছে এবং ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে চলবে।
ট্যুরের শেষ গন্তব্য হবে মেক্সিকো, যেখানে ১১ জুন অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকোতে ট্রফি শেষবারের মতো উপস্থাপিত হবে, এরপর থেকে এটি আবার নতুন চক্রে প্রবেশ করবে। এই দীর্ঘ সফরটি ভক্তদের জন্য একবারের মতো সুযোগ এনে দেয়, যাতে তারা সরাসরি ফুটবলের সর্বোচ্চ পুরস্কারটি দেখতে পারে।
বাংলাদেশে ট্রফি পূর্বে রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপের সময়ও পরিদর্শন করেছে। সেই সময়ে দেশের বিভিন্ন শহরে ট্রফি প্রদর্শিত হয়েছিল, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছিল। এইবারের সফরে ট্রফি ঢাকায় এসে আবারও দেশের ফুটবল উত্সাহীদের আনন্দে যোগ দেবে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় একটি ক্যাম্পেইন চালু করা হয়, যার মাধ্যমে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা ট্রফি দেখার এবং তার সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছেন। এই ক্যাম্পেইনটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে এবং বহু ভক্তের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। বিজয়ীরা এখন ট্রফির নিকটবর্তী হয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত রেকর্ড করার সুযোগ পাবে।
ট্রফি ঢাকায় পৌঁছানোর পর, নির্বাচিত আমন্ত্রিত অতিথিরা দেরি না করে ট্রফি দেখার সুযোগ পাবেন। রাতের দিকে ট্রফি পরবর্তী গন্তব্যে রওনা হবে, তবে রেডিসন ব্লু হোটেলে দুপুরের পর থেকে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ভক্তদের জন্য এই মুহূর্তটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা দেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির এই সফর দেশের ফুটবল উত্সাহীদের জন্য গর্বের বিষয় এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগকে দৃঢ় করবে। ট্রফি দেখার সুযোগ পেয়ে ভক্তরা ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের জন্য আরও উদ্দীপ্ত হবে এবং দেশের ফুটবল উন্নয়নে নতুন প্রেরণা পাবে।



