20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিপিএন পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছে

বিপিএন পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছে

একটি বাড়ির ভেতরে প্রচুর সংখ্যক পোস্টাল ব্যালটের প্যাকেট দেখানো ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিক ব্যালট বাক্স একসঙ্গে সাজানো অবস্থায় রয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্রতর হয়েছে।

ভিডিওটি মূলত একটি গৃহস্থালির অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালটের সঞ্চয় দেখাচ্ছিল, যেখানে ব্যালটের সংখ্যা প্রচলিত সীমা অতিক্রম করেছে বলে মনে হয়। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

বিএনপি নেতা জনাব নজরুল ইসলাম খান ভিডিওটি দেখার পর মন্তব্য করে, যারা নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডের উপর ত্বরিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন এখনও এই বিষয় নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি। এ পর্যন্ত কোনো প্রেস রিলিজ বা বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি, ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমত গঠনে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই ঘটনার উপর তাত্ক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দলটি এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রকাশনা দেয়নি, যা ভবিষ্যতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার ইঙ্গিত দিতে পারে।

নতুন পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতিতে এখন সরকারী কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, কারাবন্দী এবং প্রথমবারের মতো বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ভোটারদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই বিস্তৃত তালিকা ভোটারদের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।

পূর্বে পোস্টাল ভোটিং সীমিত ছিল এবং প্রধানত নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্যই উপলব্ধ ছিল। তবে এই বছর নির্বাচন কমিশন আইটি সমর্থিত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করে এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আইনে পরিবর্তন আনে। ফলে ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ৫ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ভোটাররা অনলাইনে আবেদন করে তাদের পোস্টাল ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫,২৭,১৫৫ ভোটারকে পোস্টাল ভোটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭,৬০,০০০ জনের বেশি বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি। বাকি ভোটাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিবন্ধিত হয়েছে।

দেশীয় ভোটারদের মধ্যে ছয় লক্ষের বেশি সরকারি কর্মচারী, প্রায় এক লক্ষ ছয় দশ হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তা, দশ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং ছয় হাজারের বেশি কারাবন্দী অন্তর্ভুক্ত। এই বিস্তৃত তালিকা পোস্টাল ভোটিংকে আরও সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

বিএনপি এই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালটের সঞ্চয় ও ব্যবহারে সম্ভাব্য অনিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে। দলটি দাবি করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য তদারকি শক্তিশালী করা এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপের উপর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতে পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ার তদারকি বাড়াবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, ফলে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে। শেষ পর্যন্ত, পোস্টাল ভোটিংয়ের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments