মঙ্গলবার রাতের দিকে ঢাকা শহরের উত্তরা‑টঙ্গী সেতুর নিকটে গ্যাস পাইপলাইনের একটি শিল্প গ্রাহকের ভাল্ভ ফেটে গ্যাসের উচ্চচাপ বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (টিটিএডি) এর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনার ফলে উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখানসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফাটলটি শিল্প গ্রাহকের সংযোগ লাইনের ভাল্ভে ঘটেছে, যেখানে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। উচ্চচাপের গ্যাস দ্রুত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে এবং সরবরাহ নেটওয়ার্কে তাত্ক্ষণিক বন্ধের প্রয়োজন হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিতাস গ্যাস ১২ ইঞ্চি ব্যাসের মূল বিতরণ লাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। এই মূল লাইনটি উত্তরা অঞ্চলের বড় অংশে গ্যাসের প্রধান সরবরাহ চ্যানেল, তাই বন্ধ থাকা অবস্থায় গ্যাসের প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়।
বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভাল্ভের পরিবর্তন কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং টেকনিশিয়ানরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখছেন। কাজ শেষ হলে মূল লাইন পুনরায় চালু হবে এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এই অপ্রত্যাশিত বন্ধের জন্য গ্রাহকদের প্রতি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পূর্বে, ১০ জানুয়ারি তুরাগ নদীর তলদেশে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মিরপুর রোডে ভাল্ভ বিস্ফোরণের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্রতর হয়েছিল। সেই সময়ে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে গ্রাহকরা দীর্ঘ সময়ের জন্য গ্যাসের অভাবে ভোগান্তি ভোগ করেন।
উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখানের বাসিন্দাদের জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ফলে রান্না, গরম পানি এবং হিটিংয়ের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শীতের মৌসুমে গ্যাসের অভাব বাড়তি আর্থিক চাপের কারণ হতে পারে।
অঞ্চলের ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট ও গ্যাস-চালিত শিল্পগুলোও সরবরাহ বন্ধের ফলে উৎপাদন ও সেবা বন্ধের মুখোমুখি হয়েছে। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক স্টোভ বা সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হলে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়, যা ব্যবসার লাভজনকতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
গ্যাস সরবরাহের অস্থায়ী বন্ধের ফলে ঢাকা গ্যাস বাজারে স্বল্পমেয়াদে চাহিদা-সরবরাহের অমিল দেখা দিতে পারে। সরবরাহের ঘাটতি মূল্য বৃদ্ধি করতে পারে, যদিও তিতাস গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধান রয়েছে। তবে বাজারে অস্থিরতা বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
অপারেশনাল দৃষ্টিকোণ থেকে, ধারাবাহিকভাবে পাইপলাইন ও ভাল্ভের রক্ষণাবেক্ষণ না হলে গ্যাস সংস্থার সুনাম ও গ্রাহক বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিতাস গ্যাসের জন্য এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হওয়ার জন্য অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন জরুরি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্যাস নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনার ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত তদারকি নিশ্চিত করবে। তিতাস গ্যাসের জন্য এখনই জরুরি হলো দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করা এবং গ্রাহকদের স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করা।
কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল বিতরণ লাইন পুনরায় চালু হবে এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। গ্রাহকদের জন্য তিতাস গ্যাসের কাছ থেকে সময়মত আপডেট ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ব্যবসা ও গৃহস্থালী কার্যক্রমে অতিরিক্ত ব্যাঘাত না ঘটে।



