28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্যোবিদি বলেন, বাংলাদেশ তৃতীয় ফ্রন্ট নয়

ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্যোবিদি বলেন, বাংলাদেশ তৃতীয় ফ্রন্ট নয়

নতুন দিল্লিতে আজ অনুষ্ঠিত বার্ষিক প্রেস কনফারেন্সে ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্যোবিদি স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশ পাকিস্তান ও চীনের পর তৃতীয় কোনো সামরিক ফ্রন্ট গঠন করছে না। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সামরিক নেতৃত্ব ঢাকা শহরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখছে এবং এখন পর্যন্ত এমন কোনো সংকেত পাওয়া যায়নি।

দ্যোবিদি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশে ঘটমান পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সক্রিয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে, কোনো শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপের সূচক নয়।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে নিয়ে তিনি একটি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন; যদি সরকার অস্থায়ী হয়, তবে তার নীতিমালা ও পদক্ষেপের সময়সীমা চার-পাঁচ বছর না হয়ে কয়েক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জোর দেন, ভারতের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণে প্রথমে এই বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, তিনটি সশস্ত্র সেবার (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী) যোগাযোগের সব পথ সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগে আছেন এবং এই সংযোগকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল উপাদান হিসেবে দেখেন।

দ্যোবিদি আরও জানান, সরাসরি সংলাপের পাশাপাশি অন্যান্য মাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল, যা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে।

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদেরও বাংলাদেশি সমকক্ষদের সঙ্গে আলাপচারিতা হয়েছে। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না ঘটে।

সামরিক সংযোগের মূল উদ্দেশ্যকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তা হল কোনো ভুল ধারণা বা যোগাযোগের ঘাটতি রোধ করা। তিনি আশ্বাস দেন, আজকের দিনে তিনটি সেবার যে সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলি ভারতের প্রতি কোনো বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে না।

বাংলাদেশি সেনাবাহিনীর পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ যে উন্নতি অর্জন করছে, তা স্বাভাবিক এবং আন্তর্জাতিক মানের অংশ।

দ্যোবিদি উল্লেখ করেন, ভারতও একই রকম সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে অগ্রসর। তিনি বলেন, প্রতিটি দেশই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তাই এই প্রবণতা স্বাভাবিক।

এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট হয়, বর্তমানে কোনো তীব্র ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটছে না এবং ভারত-বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়ে গেছে। দ্যোবিদি ভবিষ্যতে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যাতে পারস্পরিক বিশ্বাস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

পরবর্তী ধাপে, ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশে আরও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এবং নৌ ও বিমান সেবার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে। এই ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে উভয় দেশের সামরিক কৌশল ও নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করা হবে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments