বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষের চিত্রের অবস্থান নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ব্যালটের মাঝের প্রতীকে চোখ না পড়ার জন্য কাগজ ভাঁজ করা হয়েছে এবং এটি ইচ্ছাকৃত বলে মনে হয়।
ইলেকশন কমিশনার (ইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা এই বিষয়টি নজরে আনে নি এবং ডিজাইনারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিএনপি দাবি করেছে যে, যেসব দেশে এখনও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়নি, সেগুলো সংশোধন করে পুনরায় পাঠানো উচিত।
এই নির্বাচন থেকে প্রথমবারের মতো বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক, সরকারী কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দীরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবে। নিবন্ধনের পর ইসি ইতিমধ্যে তাদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দিয়েছে। ভোটারদেরকে ব্যালট সিল করে ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ডাকের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে।
বিএনপি একটি রাজনৈতিক দলকে সমালোচনা করে বলেছে যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটারদের এনআইডি, মোবাইল ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে ভুয়া ভোটার তৈরি এবং অর্থের মাধ্যমে ভোটে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযোগের পর ইসি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান ইসির আচরণবিধি প্রয়োগে অসমতা নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসির অনুরোধে তার দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করা হলেও, অন্যান্য দলের বড় নেতারা সভা করে ভোটের আহ্বান জানাচ্ছেন, তবু ইসির পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গণভোটের বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রথমে বিএনপি উপস্থাপন করেছে এবং যেখানে একমত নয়, সেখানে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করেছে। সংস্কারের পক্ষে থাকায় তারা গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেবে।
কিছু বিএনপি সমর্থক সামাজিক মাধ্যমে “না” ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন, তবে তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সরকার “হ্যাঁ” ভোটের প্রচার চালাচ্ছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিক যোগ করেছে।
ইসির পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইন সংশোধন এবং বিতরণে ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ব্যালটে ধানের শীষের চিত্র স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপি দাবি করে যে, ভোটার তালিকা যাচাই এবং ডেটা সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত তদারকি প্রয়োজন। তারা ইসিকে অনুরোধ করেছে যে, ভোটারদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্রুটি দূর করা হোক।
ইসির অফিসিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য রাখতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটারদেরকে সময়মতো ব্যালট গ্রহণ ও ফেরত দেওয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ এবং সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। ভোটের পূর্বে উভয় পক্ষই আইনগত ও প্রক্রিয়াগত দিক থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ হয়।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ইসি ভোটারদের ব্যালট সংগ্রহের শেষ তারিখের আগে পুনরায় যাচাই করবে এবং কোনো ত্রুটি প্রকাশ পেলে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।



