খুলনা শহরে বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করা নিউ মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পটি পাবলিক‑প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয়।
বৈঠকের নেতৃত্ব দেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, যিনি পিপিপি তালিকা থেকে প্রকল্পটি বাদ দেওয়ার অনুমোদন প্রদান করেন। রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব উপস্থাপন করায় উপদেষ্টা পরিষদ তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
প্রকল্পটি প্রথমবার ২০১২ সালে অনুমোদিত হয় এবং রেলওয়ের অপ্রয়োজনীয় ১৫ দশমিক ৫২ একর জমিতে ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল গড়ার পরিকল্পনা ছিল। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিউ মডার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কে নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছিল।
২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি নীতিগতভাবে স্বীকৃতি পায়। অনুমোদনের সময় প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়, যা দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত জমির পরিমাণ প্রকল্পের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট না হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। জমির ঘাটতির ফলে ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজর নিয়োগ করা হয়নি, ফলে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং আর্থিক কাঠামো নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি হয়।
বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের অগ্রগতি ধীরগতিতে চলতে থাকে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয় না। এই অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত পিপিপি তালিকা থেকে প্রকল্পটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়।
উপরোক্ত পরিস্থিতিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়, যা উপদেষ্টা পরিষদের সমর্থন পায়। অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে পিপিপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
বিপণন ও বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই সিদ্ধান্তটি দেশের পাবলিক‑প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে কিছু ঝুঁকি প্রকাশ করে। অব্যবহৃত সরকারি সম্পদকে বেসরকারি খাতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা ও জমির যথাযথ পরিমাণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রেলওয়ে সম্পদের ব্যবহারেও এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা দেয়। অব্যবহৃত রেলওয়ে জমি যদি যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয় ছাড়া প্রকল্পে যুক্ত করা হয়, তবে তা দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা সরকারি সম্পদের অপচয় ঘটায়।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই প্রকল্পের প্রত্যাহার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বড় স্কেলের হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, অর্থায়ন এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের সমন্বয় না হলে প্রকল্পের স্থায়িত্ব ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ভবিষ্যতে সমজাতীয় প্রকল্পে প্রাথমিক পর্যায়ে সম্পূর্ণ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, জমি নিশ্চিতকরণ এবং আর্থিক মডেলিং করা আবশ্যক। তদুপরি, ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজর বা বিশেষজ্ঞ সংস্থার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, খুলনা রেলওয়ে জমিতে পরিকল্পিত নিউ মডার্ন মেডিকেল কলেজ‑হাসপাতাল প্রকল্পের পিপিপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া দেশের পাবলিক‑প্রাইভেট পার্টনারশিপ কাঠামোর বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে।



