পাকিস্তানের প্রাক্তন অফ‑স্পিনার সাঈদ আজমল করাচিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আর স্বাধীন সংস্থা নয়, সম্পূর্ণভাবে ভারতের প্রভাবের অধীন, এমন দৃঢ় মন্তব্য করেন। তিনি আইসিসির বর্তমান কাঠামো ও নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে বললেন, আর্থিক শক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আইসিসি নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
আজমল উল্লেখ করেন, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই (বিএসিসিআই) এর প্রভাব আইসিসির স্বতন্ত্রতা হ্রাস করেছে। বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে বিসিসিআই‑এর প্রাক্তন সভাপতি জয় শাহ দায়িত্ব পালন করছেন, যা তার মতে সংস্থার স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তিনি যোগ করেন, যদি আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের ওপর তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না পারে, তবে সংস্থার অস্তিত্বের কোনো যুক্তি থাকে না।
ইতিহাসের উদাহরণ হিসেবে আজমল ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি উল্লেখ করেন, যেখানে নিরাপত্তা উদ্বেগের নামে ভারত পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকার করেছিল। তিনি বলেন, নিরাপত্তা অজুহাতের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং এই সিদ্ধান্তের মূল চালিকাশক্তি বিসিসিআই‑এর চাপ। এই চাপের ফলে আইসিসি হাইব্রিড মডেলে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছে, যা তিনি অবৈধভাবে ভারতের স্বার্থে পরিচালিত বলে সমালোচনা করেন।
পাকিস্তান আইসিসির এই অবস্থানকে স্বীকার করে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার। এই নীতি অনুসারে, ২০২৬ টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে, নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে বাংলাদেশও ভারতের মাটিতে খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে। বাঙ্গালি ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচের ব্যবস্থা করার জন্য আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পায়নি।
আজমল আরও জানান, বেশ কিছু টেস্ট‑প্লেয়িং দেশ ব্যক্তিগতভাবে তার মতামতের সঙ্গে একমত, তবে বিসিসিআই‑এর আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায় না। তিনি আইসিসির স্বতন্ত্রতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার আহ্বান জানান।
আইসিসি এখনো এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে সংস্থার ভবিষ্যৎ গঠন ও নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ক্রিকেটের গ্লোবাল শাসন কাঠামো কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে।



