ময়মনসিংহ শহরের দিগারকান্দা ফিশারি মোড়ে মঙ্গলবার বিকাল প্রায় চারটায় একটি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ দল যখন আরিফুল ইসলাম নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছিল, তখন তাকে কুপিয়ে হাতকড়া সহ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য পাঁচজন আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
অসামির পূর্ণ নাম আরিফুল ইসলাম, তিনি সাগর আলীর পুত্র এবং স্থানীয় এলাকায় পরিচিত। গ্রেপ্তারকালে আরিফুলের বাবা সাগর আলী ও তার সহায়করা লাঠি, দেশি অস্ত্রসহ কয়েকশো লোককে সমাবেশ করে পুলিশকে আক্রমণ করে। এই হিংসাত্মক প্রতিরোধের ফলে পুলিশ সদস্যদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।
হামলার সময় আক্রমণকারীরা কুপি ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যদের শারীরিকভাবে আঘাত করে এবং আরিফুলকে তার হাতকড়া সহ ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন এএসআই এবং তিনজন কনস্টেবলসহ দুইজন অন্যান্য কর্মী ছিলেন, যাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। আহতদের অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়।
হামলার পর র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) ও সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তারা দ্রুত উপস্থিত হয়ে হিংসা থামায় এবং এলাকায় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অতিরিক্ত ক্ষতি রোধ করা যায়।
কয়েক দিন আগে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা রাসেল নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আঘাত করে। রাসেল বর্তমানে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই পূর্ববর্তী ঘটনার পর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মঙ্গলবার বিকালে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমেদ নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালায়। এই অভিযানের সময় আরিফুলকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকালে আরিফুলের বাবা সাগর আলী ও তার সমর্থকরা লাঠি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়।
অভিযানের সময় আক্রমণকারীরা কুপি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের কুঁচকে পিটিয়ে আহত করে এবং আরিফুলকে তার হাতকড়া সহ ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনাটি কোতোয়ালি মডেল থানার ওসির মতে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অসামির বাবাকে ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি বর্তমানে থানায় আটক আছেন। ওসি নাজমুস সাকিবের মতে, এই ধরনের হিংসাত্মক প্রতিরোধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর শাস্তির আওতায় পড়বে।
হামলায় আহত এক এএসআই ও তিন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থার বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ দল এখনও এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং হামলায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।



