মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত কোয়ং ক্লাসিক প্রদর্শনী টুর্নামেন্টে নেটের উপর তার উপস্থিতি রকস্টার‑সদৃশ করে তোলার পরেও নিক কিরগিওস অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সিঙ্গেলস না খেলার সিদ্ধান্তে অটল রয়ে গেছেন। তিন বছরব্যাপী আঘাত‑সংকুল সময়ের পর পুনরায় টুর্নামেন্টে ফিরে আসা এই অস্ট্রেলিয়ান শো‑ম্যান এখন গ্র্যান্ড স্ল্যামের ডাবলস ইভেন্টে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যা আগামী রবিবার থেকে শুরু হবে।
প্রদর্শনী ম্যাচে কিরগিওসের পারফরম্যান্সকে ভক্তরা উল্লাসে ভরিয়ে তুলেছিল, তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে সিঙ্গেলসের জন্য ওয়াইল্ডকার্ডের জন্য নিজেকে বাদ দিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘ সময়ের আঘাতের পর শারীরিক অবস্থার সম্পূর্ণ নিশ্চিত না থাকলে শীর্ষ স্তরের পাঁচ সেটের ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হওয়া ন্যায়সঙ্গত হবে না।
কিরগিওসের এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সিঙ্গেলস ড্রয়িংয়ে তিনটি শেষ ওয়াইল্ডকার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য খেলোয়াড়দের হাতে চলে যায়। সুইসের তিনবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন স্ট্যান ওয়ারিন্কা এবং অস্ট্রেলিয়ার জর্ডান থম্পসন ও ক্রিস ও’কনেলকে এই শেষ তিনটি ওয়াইল্ডকার্ড প্রদান করা হয়েছে।
কিরগিওস স্ট্যান ওয়ারিন্কা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, যুক্ত ইউনাইটেড কাপের তিন‑চারটি উচ্চমানের ম্যাচে তিনি ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাই তার ওয়াইল্ডকার্ড পাওয়া সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত। তিনি আরও যোগ করেন, শারীরিক দিক থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না করা অবস্থায় বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে প্রবেশ করা অন্যায় হবে।
প্রদর্শনী ম্যাচে কিরগিওস চীনের ঝাং জি ঝেনকে সুপার টায়ব্রেকের মাধ্যমে ৬‑৩, ৪‑৬, ১১‑৯ স্কোরে পরাজিত করেন। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে উভয় খেলোয়াড়ই তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ছিলেন, তবে কিরগিওসের শক্তিশালী সার্ভ এবং আক্রমণাত্মক শটগুলো শেষ পর্যন্ত তাকে জয় এনে দেয়। এই জয় তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচের সময় ভক্তদের উল্লাসের শব্দ গুঞ্জন তীব্র ছিল, যা কিরগিওসকে “অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত” পরিবেশের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, যদি এই ধরনের উচ্ছ্বাস না থাকত, তবে তিনি অন্য কোনো উপায়ে তার মানসিক শক্তি বজায় রাখতে পারতেন না। ভিড়ের চিৎকার এবং তালি তার পারফরম্যান্সে অতিরিক্ত প্রেরণা যোগায়।
কোর্টের বাইরে কিরগিওসের বেশ কিছু ব্যক্তিগত বিষয় পরিচালনা করতে হচ্ছে, তবে তিনি স্বীকার করেন যে এই মুহূর্তের অনুভূতি অন্য কোনো ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। তার মতে, টেনিসের বাইরে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলোকে সামলাতে এই ধরনের সমর্থন ও উচ্ছ্বাস অপরিহার্য।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রধান ইভেন্ট আগামী রবিবার থেকে শুরু হওয়ায় কিরগিওসের ডাবলস পার্টনারের সঙ্গে প্রস্তুতি তীব্রভাবে চলছে। তিনি ডাবলসের ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক অবস্থা ও কৌশলগত দিক থেকে আরও আত্মবিশ্বাসী বোধ করছেন, যা তাকে সিঙ্গেলসের তুলনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।
কিরগিওসের এই সিদ্ধান্ত টেনিস জগতে বিভিন্ন মতামত উত্থাপন করেছে, তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তার লক্ষ্য এখন ডাবলসের মাধ্যমে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতা এবং শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট অবস্থায় ফিরে আসা। তার এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়তে সহায়ক হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ডাবলস ড্রয়িংয়ে কিরগিওসের নাম ইতিমধ্যে তালিকায় রয়েছে, এবং তার পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকবে টুর্নামেন্টের পুরো সময় জুড়ে। ভক্ত ও বিশ্লেষকরা আশা করছেন, তার শক্তিশালী সার্ভ এবং দ্রুত নেট গেম ডাবলসের ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, কিরগিওসের সিঙ্গেলস বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ডাবলসে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনা তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়। তিনি শারীরিক দিক থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সিঙ্গেলসের ঝুঁকি নিতে চান না, তবে ডাবলসের মাধ্যমে গ্র্যান্ড স্ল্যামের মঞ্চে ফিরে আসার জন্য তিনি ইতিমধ্যে প্রস্তুত। টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, কিরগিওসের প্রথম ডাবলস ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে, যা টেনিস প্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।



