27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হসিনার ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণ রায় প্রকাশ করেছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হসিনার ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণ রায় প্রকাশ করেছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি-১) আজ তার ওয়েবসাইটে ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণ রায় প্রকাশ করেছে। রায়টি জুলাই উত্থানকালে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে গৃহীত হয়। রায়ের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জানা গেল যে, রায়টি গত বছর নভেম্বর ১৭ তারিখে শোনানো হয়েছিল।

রায়ে শীঘ্রই শাসন থেকে বাদ পড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই রকম শাস্তি তার প্রাক্তন গৃহমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও দেওয়া হয়েছে। দুজনের সম্পত্তি জব্দ করে রাষ্ট্রের স্বার্থে স্থানান্তর করার নির্দেশও রায়ে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে উভয়ই গ্রেফতার থেকে পলায়ন করে গৌণ অবস্থানে আছেন।

মামলায় আরেকজন উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হল প্রাক্তন পুলিশ ইনস্পেক্টর জেনারেল চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি মামলায় রাষ্ট্রের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। তার সাক্ষ্য আইসিটি-কে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধের প্রমাণ সরবরাহ করেছে।

এই রায়টি ২০২৪ সালের বৃহৎ জনউত্থানের সময় ঘটে যাওয়া ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য নৃশংসতার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। ঐ উত্থান শেষ পর্যন্ত সেই সময়ের সরকারকে পতন ঘটায় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত সময়ে বহু নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন, এবং ব্যাপক সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।

আইসিটি-র এই রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। শাসন পরিবর্তনের পর থেকে আইসিটি-র কার্যক্রমে বাড়তি নজরদারি ও কঠোরতা দেখা গেছে, এবং এই রায়ের মাধ্যমে অতীতের অপরাধের দায়িত্বশীলদের বিচার করা হবে বলে সরকার দাবি করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো রায়ের ন্যায়বিচার ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং রায়ের কার্যকরীতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।

আইসিটি-র প্রধান প্রসিকিউটরের অফিসের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণ পাঠ্য আপলোড করা হয়েছে, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। রায়ের বিশদে উল্লিখিত অপরাধের তালিকা, সাক্ষ্য এবং প্রমাণের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রায়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত দায়িত্বশীলদেরও বিচারের মুখে আনা হতে পারে, যা রাজনৈতিক দিক থেকে বড় প্রভাব ফেলবে।

অধিকন্তু, রায়ে উল্লিখিত সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং তা রাষ্ট্রের তহবিলে কীভাবে যুক্ত হবে, তা নিয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি সম্পদের পুনর্বণ্টন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান উভয়েরই পলায়ন অব্যাহত থাকায়, রায়ের কার্যকরীতা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে, চৌধুরী আল-মামুনের শাস্তি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কারাগার ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

এই রায়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আইসিটি-র রায়ের আপিল প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, যা উভয় পক্ষের জন্য আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। আপিলের ফলাফল রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করবে এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ প্রকাশিত রায়ে শীঘ্রই শাসন থেকে বাদ পড়া প্রধানমন্ত্রী ও তার সহকর্মীর মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেছে, পাশাপাশি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তি ও সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। রায়ের বাস্তবায়ন ও আপিল প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments