ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বাধীন প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আশুগঞ্জের শারিফপুরে অনুষ্ঠিত মিলাদ মহফিলে জুবো দাল স্থানীয় নেতা আলমগীর খানের দ্বারা তার ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে করা মানহানিকর ও অশ্লীল মন্তব্যের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
রুমিন ফারহানা সম্প্রতি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, কারণ তিনি পার্টির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, আলমগীর খান “রুমিন ফারহানা ও মমতাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই” বলে মন্তব্য করেন এবং সমর্থকদের প্রতি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন।
এই মন্তব্যগুলোকে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগের সঙ্গে তিনি একটি ভিডিও লিংক সংযুক্ত করে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রিটার্নিং অফিসার শারমিন আখতার জাহান অভিযোগ গ্রহণের পর জানান, সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আলমগীর খানের মন্তব্যের ফলে রুমিনের ঘাঁটি সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত দেখা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ভাষা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষয় করে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর রুমিন ফারহানা স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন, যা পার্টির অভ্যন্তরে তার সঙ্গে মতবিরোধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তার এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষকরা পার্টির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সূচক হিসেবে দেখেছেন, তবে রুমিন নিজে তা অস্বীকার করে, তিনি বলছেন যে তিনি জনগণের সেবা ও প্রতিনিধিত্বের জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
জুবো দাল নেতার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রুমিনের অভিযোগের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলতে চাচ্ছে, যেখানে রুমিন ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতার দাবি করছেন এবং জুবো দাল তার মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন অফিসের দায়িত্ব হল সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী লঙ্ঘন ঘটলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করা। রুমিনের অভিযোগের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলমান, এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে রিটার্নিং অফিসার অভিযোগের তদন্তে ভিডিও প্রমাণসহ সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করবেন। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যার মধ্যে নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে তার যোগ্যতা বাতিল করা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত।
রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, তিনি আশা করেন যে এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান মঞ্চ নিশ্চিত হবে। তিনি আবারও সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী নীতি মেনে চলার আহ্বান জানান, যাতে ভোটারদের অধিকার রক্ষা পায়।
অবশেষে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মোড় নেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। রুমিনের স্বাধীনপ্রার্থী অবস্থান এবং জুবো দালের মন্তব্যের প্রভাব ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ফলাফলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



