27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচীন শাক্সগাম উপত্যকা নিজের দাবি জানিয়ে ভারতের সার্বভৌমত্ব প্রত্যাখ্যান

চীন শাক্সগাম উপত্যকা নিজের দাবি জানিয়ে ভারতের সার্বভৌমত্ব প্রত্যাখ্যান

চীন আজ শাক্সগাম উপত্যকা, যা ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অংশ হিসেবে গণ্য, নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মন্তব্যটি বেইজিংয়ের একটি সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংের দ্বারা প্রকাশিত হয়।

মাও নিং শাক্সগাম উপত্যকার উপর চীনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করে, উল্লেখ করেন যে এই অঞ্চলে চীন যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ চালাতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে এই অঞ্চল চীনের অংশ এবং সেখানে অবকাঠামো নির্মাণের অধিকার চীনের বৈধ অধিকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও একই সময়ে শাক্সগাম উপত্যকাকে ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ১৯৬৩ সালে চীন ও পাকিস্তান যে সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা ভারত কখনো স্বীকৃতি দেয়নি এবং তা অবৈধ ও বাতিল বলে গণ্য।

ভারতীয় কর্মকর্তার মতে, শাক্সগাম উপত্যকা ভারতের অখণ্ড অংশ এবং তাই দিল্লি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC)কেও স্বীকৃতি দেয় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ, দুইটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই অবস্থান পাকিস্তান ও চীনা কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হয়েছে।

চীনের পক্ষ থেকে মাও নিংের উত্তরে বলা হয় যে ১৯৬০-এর দশকে চীন ও পাকিস্তান একটি সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে, যা দুই সার্বভৌম দেশের অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। তিনি জোর দেন যে এই চুক্তি এবং CPEC কাশ্মীর বিষয়কে প্রভাবিত করে না, এবং চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

CPEC সম্পর্কে মাও নিং ব্যাখ্যা করেন যে এটি একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ, যার লক্ষ্য স্থানীয় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করা। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়বে, তবে এটি কাশ্মীরের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে পরিবর্তন করবে না।

দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ রয়ে এসেছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ হিমালয় অঞ্চলের সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা অর্জন করেছিল, যা উভয় পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগকে কিছুটা শিথিল করেছিল।

তবে ২০২০ সালে একই সীমান্তে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন এবং চীনের চারজন সৈন্য প্রাণ হারায়। এই ঘটনার পর থেকে উভয় দেশের মধ্যে সীমান্তে সামান্য হলেও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

বর্তমানে অরুণাচল প্রদেশ এবং শাক্সগাম উপত্যকায় নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। চীনের সাম্প্রতিক দাবির ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে কাশ্মীরের ভূখণ্ডগত বিষয়টি উভয় পক্ষের জন্য সংবেদনশীল।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই দাবিগুলি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার নতুন রূপ নিতে পারে এবং সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি।

দিল্লি ও বেইজিং উভয়ই আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ এবং হিমালয় সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার জন্য দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments