দেবপ্রিয় ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক সেমিনারে উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান সংকট অতিক্রমের জন্য স্বচ্ছ, কার্যকর এবং জনগণের স্বীকৃতিমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যদি ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে দেশের উন্নয়নের পথে গতি বাড়াবে।
সেমিনারটি মেহেরপুরে ‘নির্বাচন ও গণভোটের প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালন’ শীর্ষক একটি কর্মশালার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। এতে নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞ, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।
দেবপ্রিয়ের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি ঘাটতি এবং সামাজিক অশান্তি সহ বহু চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের নেতৃত্বকে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে আইনগত কাঠামো মেনে চলা এবং সকল রাজনৈতিক শক্তির সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার।
বিবেচনা করা হয়েছে যে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, দেবপ্রিয়ের মন্তব্যগুলোকে কিছু বিশ্লেষক ‘সংকটের সময়ে রাজনৈতিক সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে যদি জনগণের বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যায়, তবে তা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়াবে।
দেবপ্রিয়ের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত এক বিশ্লেষকও বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকা আপডেট, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার এবং ত্রুটিমুক্ত ফলাফল ঘোষণার ব্যবস্থা জরুরি। তিনি যোগ করেন, এসব পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া পুনরায় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
অধিকন্তু, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের পূর্বে অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং নির্বাচনী কোডের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখতে হবে। দেবপ্রিয়ের মতে, এই ধরনের প্রস্তুতি না থাকলে নির্বাচনের ফলাফলকে সকল পক্ষ স্বীকৃতি না দিতে পারে, যা আবার নতুন রাজনৈতিক অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, যা ২০২৬ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত, তার প্রস্তুতি এখনই শুরু হওয়া দরকার। দেবপ্রিয়ের আহ্বান অনুসারে, নির্বাচন কমিশনকে আইনগত দিক থেকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত করে তোলা, ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন দ্রুততর করা উচিত।
সেমিনারের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী একমত হন যে, সুষ্ঠু, কার্যকর এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক সমন্বয়ের মূল চাবিকাঠি। দেবপ্রিয়ের এই মন্তব্যগুলোকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংকটের সময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই ধরনের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, নির্বাচনের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কাঠামো গঠনে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘোষণাকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবে এবং পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নে নজর রাখবে।



