হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন ৯৫তম স্থানে রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ স্থান উপরে। এই র্যাঙ্কিং অনুযায়ী বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা ৩৭টি দেশে ভিসা‑ফ্রি বা ভিসা‑অন‑অ্যারাইভাল সুবিধা পেতে পারেন। উত্তর কোরিয়া ও ফিলিস্তিন এক স্থান উপরে, উভয় দেশের স্কোর ৩৮।
হেনলি ইনডেক্সে বাংলাদেশকে বিশ্বের সপ্তম সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে নেপাল (৯৬তম), পাকিস্তান (৯৮তম) ও আফগানিস্তান (১০১তম) এর চেয়ে বাংলাদেশ সামান্য এগিয়ে। একই অঞ্চলে মালদ্বীপ ৫২তম স্থানে, ভারত ৮০তম এবং ভুটান ৮৫তম স্থানে রয়েছে।
ইতিহাসে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ র্যাঙ্ক ২০০৬ সালে ৬৮তম, আর সর্বনিম্ন র্যাঙ্ক ২০২১ সালে ১০৮তম। এই ওঠানামা দেশের ভ্রমণ নীতি ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রভাবকে নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিসা‑অন‑অ্যারাইভাল চুক্তি বাড়ানোর ফলে র্যাঙ্কে উন্নতি দেখা গেছে।
বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর, যার পাসপোর্টধারীরা ১৯২টি দেশে ভিসা‑ফ্রি প্রবেশের সুবিধা পান। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিতীয় স্থানে, উভয় দেশের স্কোর ১৮৮। ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড একসাথে তৃতীয় স্থান ভাগ করে, প্রত্যেকের স্কোর ১৮৬।
যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ২০ বছরের পর প্রথমবার শীর্ষ দশের বাইরে নেমে এসেছে, তবে গত বছর ১২তম থেকে উঠে ১০ম স্থানে ফিরে এসেছে, স্কোর ১৭৯। শীর্ষ পাঁচের মধ্যে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে একসাথে ১৮৫টি গন্তব্যে ভিসা‑ফ্রি প্রবেশের অধিকার পায়। হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রত্যেকের স্কোর ১৮৪, যা শীর্ষ পাঁচের শেষ স্তর।
অফসেটের দিকে তাকালে আফগানিস্তান সর্বনিম্ন র্যাঙ্কে রয়েছে, তার আগে সিরিয়া (১০০তম), ইরাক (৯৯তম), পাকিস্তান ও সোমালিয়া (৯৭তম) রয়েছে। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স পাসপোর্টধারীরা যে গন্তব্যে ভিসা‑ফ্রি, ভিসা‑অন‑অ্যারাইভাল বা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (eTA) পেতে পারেন, তার সংখ্যা ভিত্তিক র্যাঙ্কিং করে।
বিশ্লেষক রমেশ চৌধুরী বলেন, “পাসপোর্টের স্কোর শুধু ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দ্যই নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সূচকও বটে। বাংলাদেশ যদি ভিসা‑অন‑অ্যারাইভাল চুক্তি বাড়িয়ে চলতে পারে, তবে র্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতি সম্ভব।” এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও ভিসা‑ফ্রি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে মনোযোগ দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করবে।
হেনলি ইনডেক্সের ডেটা যুক্তরাজ্যের হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স সংস্থা ২০০৬ সাল থেকে সংগ্রহ করে প্রকাশ করে। র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তি হল প্রতিটি পাসপোর্টধারীর জন্য কতগুলো গন্তব্যে পূর্বে ভিসা আবেদন না করেই প্রবেশের অনুমতি আছে। এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতি, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং ইলেকট্রনিক ভিসা সিস্টেমের বিকাশকে প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট র্যাঙ্কিংয়ে সাম্প্রতিক উন্নতি সরকারী পর্যটন নীতি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলাফল হিসেবে দেখা যায়। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশ ভিসা‑অন‑অ্যারাইভাল বা ইলেকট্রনিক ভিসা অনুমোদন করলে র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের ভ্রমণ বাজারকে উন্মুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে।



