শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরগুলো ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া সংবিধান সংশোধনী গণভোটের ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এই গণভোটটি জুলাই ২০২৫-এ গৃহীত জাতীয় সনদের অধীনে সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা লক্ষ্য।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত সরকারি নথি, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পার্সেল ইত্যাদিতে গণভোটের লোগো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। লোগোর স্বচ্ছ সংস্করণ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
লোগো ব্যবহারের পাশাপাশি, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুইটি উল্লম্ব ব্যানার স্থাপন করতে হবে। ব্যানারগুলোকে চোখে পড়ার মতো রঙে, স্পষ্ট অক্ষরে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বার বা প্রধান হলের মতো দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
ব্যানারের আকার ও ডিজাইন সম্পর্কে কোনো কঠোর সীমা নির্ধারিত না থাকলেও, লোগো ও ট্যাগলাইন স্পষ্টভাবে দেখা যায় এমনভাবে তৈরি করা উচিত। ব্যানারটি কাগজ, ফ্যাব্রিক বা প্লাস্টিকের যেকোনো উপাদানে তৈরি করা যেতে পারে, তবে টেকসইতা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের উপকরণ ব্যবহার করা উচিৎ।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বা পরিচালককে এই নির্দেশনা অনুসরণে দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। তারা নিজ নিজ বিভাগে একটি সমন্বয়কারী দল গঠন করে লোগো ডাউনলোড, ব্যানার প্রিন্ট এবং স্থাপন কাজের তদারকি করবেন।
একটি সরকারি কলেজের উদাহরণে দেখা যায়, কলেজের প্রশাসন দ্রুতই নির্বাচন কমিশনের সাইট থেকে লোগো সংগ্রহ করে, গ্রাফিক ডিজাইনারের সাহায্যে ব্যানার তৈরি করে এবং প্রধান প্রবেশদ্বারের দুপাশে উঁচু করে ঝুলিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সকল অফিসের হেডার পেপার, নোটিশ ও ইমেইল স্বাক্ষরে লোগো যুক্ত করা হয়েছে।
এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভোটারদের মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব ও সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ও কলেজের পরিবেশে এই তথ্যের মুখোমুখি হয়ে ভোটের প্রস্তুতি নিতে পারবে।
প্রশাসনিক দিক থেকে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে লোগোর ফাইল ফরম্যাট (PNG, SVG) সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে নেটওয়ার্কে শেয়ার করা, এবং ব্যানার তৈরির জন্য স্থানীয় প্রিন্টারদের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।
অবশেষে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, লোগো ও ব্যানার স্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পর তা নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হোক, কোনো ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে দ্রুত প্রতিস্থাপন করা হোক, যাতে ভোটারদের কাছে সর্বদা পরিষ্কার ও সঠিক তথ্য পৌঁছায়।
**ব্যবহারিক টিপ:** ব্যানার তৈরির আগে একটি ছোট দল গঠন করে ডিজাইন প্রোটোটাইপ তৈরি করুন, তারপর শিক্ষার্থীদের মতামত নিন; এভাবে ব্যানারটি আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল দুটোই হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে মিশে যাবে।



