১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) স্পোর্টস ডেস্ক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)‑কে একটি ই‑মেইল প্রেরণ করা হয়। ই‑মেইলে আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য আইসিসি যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিসিবি‑কে তা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইসিসি ই‑মেইলে জোর দিয়ে বলেছে যে বিশ্বকাপের সময় স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হোটেল, পরিবহন এবং ভক্তদের জন্য নির্ধারিত সব জোনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখতে হবে। এই মানদণ্ডে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
বিসিবি এই ই‑মেইলটি গ্রহণের পর তাৎক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা শুরু করে এবং আইসিসি কর্তৃক উল্লিখিত সব বিষয়ের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার প্রতিশ্রুতি জানায়। বোর্ডের মুখ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, “আমরা আইসিসি‑এর নির্দেশনা মেনে চলতে এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” এই বক্তব্য ই‑মেইলের মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ই‑মেইলের পাশাপাশি, একই দিনে আইসিসি ও বিসিবি‑এর মধ্যে একটি ভিডিও কনফারেন্সও অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্সে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবির বিষয়টি উত্থাপিত হয় এবং উভয় পক্ষই বিষয়টি সমাধানের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে। ভিডিও কনফারেন্সের সময় আইসিসি প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, “ভেন্যু পরিবর্তন সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্তই নিরাপত্তা প্রভাব বিবেচনা করে নিতে হবে।” এই আলোচনার মাধ্যমে উভয় সংস্থার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করা হয়েছে।
আইসিসি ই‑মেইলে উল্লেখিত নিরাপত্তা মানের মধ্যে স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং ভক্তদের জন্য নিরাপদ প্রবেশ‑প্রস্থান পথ নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ও কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা গাইডলাইনও উল্লেখ করা হয়েছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিসিবি‑এর নিরাপত্তা দল ইতিমধ্যে দেশের প্রধান বিমানবন্দর, হোটেল এবং টুর্নামেন্টের মূল ভেন্যুতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিদর্শন শুরু করেছে। তারা আইসিসি‑এর চেকলিস্ট অনুসারে প্রতিটি স্থানে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সরবরাহ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
আইসিসি ই‑মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো ঘাটতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় আইসিসি‑এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দল এবং বিসিবি‑এর স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা দুজনই অংশ নেবে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে শেষ নিরাপত্তা পর্যালোচনা সম্পন্ন করার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আইসিসি এই সময়সীমা মেনে চলতে না পারলে টুর্নামেন্টের কিছু ভেন্যুতে পরিবর্তন বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে।
বিসিবি‑এর প্রধান কোচও নিরাপত্তা বিষয়ক ই‑মেইলটি পেয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন যে খেলোয়াড়দের নিরাপদ পরিবেশে খেলা নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো দলই সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারে না, তাই আমরা সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করছি।” এই মন্তব্য ই‑মেইলের মূল বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আইসিসি ও বিসিবি‑এর মধ্যে চলমান এই সংলাপ বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় সংস্থা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।
ই‑মেইল ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তী সপ্তাহে বিসিবি‑এর নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আইসিসি‑এর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টুর্নামেন্টের অন্যান্য প্রস্তুতি কাজও ত্বরান্বিত হবে।
সারসংক্ষেপে, আইসিসি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বিসিবি‑কে ই‑মেইল পাঠিয়েছে এবং উভয় সংস্থা ভিডিও কনফারেন্সে নিরাপত্তা ও ভেন্যু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বয় করেছে। এই সমন্বয় ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোকে নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরিচালনা করার ভিত্তি স্থাপন করবে।



