ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ মঙ্গলবার জাবেদ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে থাকা সম্পদের ওপর জব্দের আদেশ দেন। আদেশে ২৯৭টি বাড়ি ও ৩০টি অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা স্থগিত করা, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা এক কোটি ডলার অবরুদ্ধ করা এবং মোট চার কোটি চৌষট্টি লাখ ত্রিশ হাজার চারশ পঞ্চান্ন শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ রয়েছে।
দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ও সিআইডি (পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ) একসঙ্গে আবেদন করে আদালতে এই আদেশের দাবি জানায়। দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান জাবেদের সম্পদ জব্দের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করেন, আর সিআইডি একই দিনে শেয়ার অবরুদ্ধের আবেদন দায়ের করে।
আদালতের আদেশে উল্লেখিত সম্পদের ভৌগোলিক বিস্তার বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রে মোট চল্লিশটি বাড়ি, থাইল্যান্ডে তেইশটি, মালয়েশিয়ায় সত্তরটি, দুবাইতে উনপঞ্চাশটি, কম্বোডিয়ায় একশত সতেরোটি, ভিয়েতনামে চারটি বাড়ি, ভারতে নয়টি এবং ফিলিপাইনে দুইটি বাড়ি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ত্রিশটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা একই আদেশে জব্দের আওতায় আনা হয়েছে।
শেয়ার অবরুদ্ধের পরিমাণ চার কোটি চৌষট্টি লাখ ত্রিশ হাজার চারশ পঞ্চান্ন শেয়ার, যা জাবেদের বিভিন্ন কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোর অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত। এই শেয়ারগুলো অবিলম্বে লিকুইডেট করা যাবে না এবং কোনো লেনদেনে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
অতিরিক্তভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে জাবেদের এক কোটি ডলার মূল্যের বিনিয়োগের ওপরও অবরুদ্ধের আদেশ জারি করা হয়েছে। এই অর্থের ব্যবহার ও উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলমান, এবং আদালত এই সম্পদের কোনো আউটফ্লো অনুমোদন করবে না।
দুদক ও সিআইডি উভয় সংস্থা একাধিক মামলা দায়েরের ভিত্তি হিসেবে জাবেদের ওপর আর্থিক দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং সম্পদ লুকিয়ে রাখার অভিযোগ তুলে ধরেছে। ২০২২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে দুদক ও সিআইডি জাবেদের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।
এই আদেশের পরবর্তী শোনার তারিখ



