22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রসিকিউটররা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি

প্রসিকিউটররা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি

সিয়োলের একটি আদালতে প্রাক্তন দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি ইউন সুক-ইয়োলের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি যদি দোষী প্রমাণিত হন, তবে তার ওপর সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকবে। এই মামলা তার ডিসেম্বর ২০২৪-এ সামরিক শাসন আরোপের ব্যর্থ প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত, যা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হলেও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে বিশৃঙ্খলায় ফেলে দেয়।

ডিসেম্বর ২০২৪-এ ইউনের নেতৃত্বে সামরিক শাসনের ঘোষণা দেওয়া হয়, তবে তা দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়। এই অস্থায়ী পদক্ষেপের ফলে সংসদীয় সদস্যদের মধ্যে বিশাল বিরোধ দেখা দেয় এবং জনমতেও তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সংসদ ইউনকে অপসারণের জন্য ইম্পিচমেন্টের প্রস্তাব পাস করে, এবং তাকে গ্রেফতার করে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখে আনা হয়।

ইউন এই অভিযোগের বিরুদ্ধে দাবি করেন যে সামরিক শাসনের ঘোষণা কেবল প্রতীকী ছিল, যা বিরোধী দলীয় দুর্নীতির প্রতি জনসচেতনতা বাড়াতে করা হয়েছিল। তিনি বলেন, কোনো সহিংসতা বা প্রাণহানি ঘটেনি এবং তার উদ্দেশ্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছানো ছিল। তবে আদালতে তার এই ব্যাখ্যা প্রমাণের সঙ্গে তুলনা করে বিচার করা হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে ‘বিদ্রোহের নেতৃত্ব’ সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি এবং এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা আজীবন কারাদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই অপরাধের জন্য প্রসিকিউটরকে শাস্তি নির্ধারণের সময় অবশ্যই একটি বিকল্প বেছে নিতে হয়। তাই ইউনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি করা হয়েছে, যদিও দেশের শেষ মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরী শাস্তি প্রায় ত্রিশ বছর আগে শেষ হয়েছে।

১৯৯৬ সালে সামরিক শাসক চুন দু-হওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে তা আজীবন কারাদণ্ডে কমিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময়ের পর থেকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি, যা বর্তমান মামলাটিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।

প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন যে, যদিও ইউনের সামরিক শাসনের প্রচেষ্টায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবু তার ইচ্ছা সহিংসতার সমতুল্য ছিল। তারা উল্লেখ করেন যে, ইউনের আদেশে আইনসভা সদস্যদের গ্রেফতার করা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা দেশের শাসন কাঠামোকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছিল।

সামরিক কমান্ডারকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়, যিনি জানান যে ইউন সরাসরি সংসদ সদস্যদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সাক্ষ্য আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয় এবং ইউনের নেতৃত্বের মাত্রা স্পষ্ট করতে সহায়তা করে।

অধিকন্তু, সামরিক শাসনের পরিকল্পনাকারী একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা দ্বারা রচিত একটি নথি আদালতে উপস্থাপিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ, যার মধ্যে সাংবাদিক, শ্রমিক কর্মী এবং আইনসভা সদস্য অন্তর্ভুক্ত, ‘নিপটিয়ে দেওয়া’ হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। এই নথি ইউনের ইচ্ছার তীব্রতা এবং সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণকে তুলে ধরে।

ইউনের বিচারের সঙ্গে একই সময়ে তার দুইজন উচ্চপদস্থ সহকর্মীর মামলা যুক্ত করা হয়েছে। একজন হলেন প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম ইয়ং-হ্যুন, আর অন্যজন হলেন প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চো জি-হো। উভয়েই সামরিক শাসনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার অভিযোগে অভিযুক্ত।

বিচারকের সিদ্ধান্ত এবং শাস্তি নির্ধারণের সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় পক্ষের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সময়সীমা আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত, যেখানে একই ধরনের মামলায় একই সময়ের মধ্যে রায় দেওয়া হয়েছে।

ইউন এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বর্তমানে কয়েক মাস ধরে জেলখানায় আটক রাখা হয়েছে। তাদের আটককাল এবং শর্তাবলী আদালতের আদেশ অনুসারে নির্ধারিত, এবং কোনো শর্তে মুক্তি পাওয়া যায়নি।

এই মামলার ফলাফল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যে বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। তবে বর্তমান প্রতিবেদনে শুধুমাত্র আদালতের কার্যক্রম এবং প্রমাণের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো অনুমান করা হয়নি।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments