১৩ জানুয়ারি, ২০২৬-এ ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য আসিফ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারতের সীমানার বাইরে সাইবেরিয়ায় অনুষ্ঠিত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিতে তিনি কোনো আপত্তি অনুভব করছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বাইরে খেললে কোনো বাধা নেই এবং খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়বে না।
আসিফের এই মন্তব্যের সময়, দেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক কিছু নীতি পরিবর্তনও আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে, মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্কে হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনের দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও এটি সরাসরি ক্রীড়া বিষয় নয়, তবে খরচ কমে যাওয়ায় খেলোয়াড় ও স্টাফের জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কয়েক দিন আগে, একই সময়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা ঠিক আছে এবং তিনি আসন্ন সিরিজে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এই তথ্যের সঙ্গে আসিফের সাইবেরিয়া সম্পর্কিত মন্তব্যের সমন্বয় করে বোঝা যায়, দলটি বিদেশি মঞ্চে খেলতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একটি ইমেইল পাঠিয়ে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বিদেশি ভেন্যুতে ম্যাচের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সাইবেরিয়ার মতো দূরবর্তী স্থানে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে, এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে দলের একটি খেলোয়াড়কে টিম থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তটি ৬ জানুয়ারি, ২০২৬-এ জানানো হয়েছিল এবং তা দলের কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। যদিও বাদ পড়া খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশিত হয়নি, তবে এই ঘটনা দল গঠনের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ডের প্রয়োগকে নির্দেশ করে।
আসিফের মন্তব্যের পর, ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, সাইবেরিয়ার শীতল পরিবেশ এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে প্রস্তুতি ও মানিয়ে নেওয়া চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এটি একটি মূল্যবান সুযোগ। তিনি নিজে বলেছিলেন, “যদি সুযোগ আসে, আমরা প্রস্তুত।” এই বাক্যটি তার আত্মবিশ্বাস ও দলের মনোভাবকে প্রতিফলিত করে।
দলটির পরবর্তী সূচি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে সাইবেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে এমন কোনো সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, আসিফের উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি এবং দলের সাম্প্রতিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও নীতি পরিবর্তনগুলো একত্রে দেখায় যে বাংলাদেশি ক্রীড়া সংস্থা আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সাইবেরিয়ার মতো নতুন ভৌগোলিক অঞ্চলে ম্যাচের সম্ভাবনা দলকে নতুন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।



