ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি – পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত মঙ্গলবার ধানমন্ডি থানায় দায়ের এক হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রধানমন্ত্রী শীহ হাসিনা সহ ১১৩ অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিয়েছে। পিবিআই জানায়, মামলাটিতে অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ভিকটিম ও তথ্যের মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে।
মামলাটি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ধানমন্ডি থানায় এক ব্যক্তি শারিফ (৩৭) নামের দ্বারা দায়ের করা হয়। অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী সাহেদ আলীকে ভিকটিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাকে বাদীর ছোট ভাই বলা হয়েছে। এছাড়াও নয়জন আহতের নাম তালিকাভুক্ত করা হলেও তাদের পূর্ণ ঠিকানা বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থল ধানমন্ডি‑২৭ এলাকার মিনা বাজারের আশেপাশে, সময় ৪ আগস্ট ২০২৪ সকাল ১১টা নির্ধারিত।
পিবিআই তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, এফিডেভিটে উল্লেখিত ঠিকানায় কখনোই সাহেদ আলীর কোনো বসবাসের রেকর্ড নেই। একই সঙ্গে বাদীর ঠিকানায়ও তার নামের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। আরও জানানো হয়েছে, সাহেদ আলী বাদীর ভাই নয়; এফিডেভিটে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং এর সঙ্গে কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নয়।
ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘সীমান্ত স্কয়ার’ নাম উল্লেখ করা হলেও, বাজার কমিটির সঙ্গে সরাসরি ও লিখিত যোগাযোগের পরেও ওই নামের কোনো ব্যবসা বা মালিকের তথ্য পাওয়া যায়নি। আহতদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তবে স্পষ্ট কোনো ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
পিবিআই এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জানিয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত সব মামলায় তারা আন্তরিকভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের ১৭টি গ্রেফতার (GR) মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে আদালতে চার্জশিট জমা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৭টি সিআর (CR) মামলায়ও অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
ধানমন্ডি থানার ওই হত্যাচেষ্টা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর গণমাধ্যম ও সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। মামলায় শীহ হাসিনার পাশাপাশি বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা জনমতকে উস্কে দিয়েছিল। পিবিআইয়ের মতে, মামলাটির মূল অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় এবং প্রমাণের অভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের অব্যাহতি পাওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে পিবিআই উল্লেখ করেছে যে, তারা ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগে প্রমাণের ঘাটতি না থাকলে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যান্য মামলায়ও প্রমাণের যথাযথতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদন্ত চালিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শীহ হাসিনার অব্যাহতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে, তবে পিবিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কোনো নতুন অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা কীভাবে পরিচালিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
পিবিআইয়ের এই ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তের পর, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আইনগতভাবে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রাখবে, তবে বর্তমান অবস্থায় কোনো অতিরিক্ত দায়ের প্রত্যাশা করা যাচ্ছে না। মামলাটির চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো দেশের রাজনৈতিক গতিপথে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



