ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়া ২৬ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীকে সরকার বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুবকটি গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হয় এবং একই সপ্তাহে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই তাকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়, যা দেশের শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অতি দ্রুত গতি নির্দেশ করে। পরিবারকে ইতিমধ্যে বুধবার শাস্তি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে, তবে তার বিচার কখন এবং কোন অভিযোগে করা হয়েছে তা সম্পর্কে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।
একটি মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে এবং উল্লেখ করেছে যে, তারা এত দ্রুত কোনো মামলার সমাপ্তি দেখেনি। সংস্থার প্রতিনিধির মতে, সরকার জনগণকে দমন ও ভয় দেখাতে তার সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ফলে দেশের অভ্যন্তরে ঘটিত রক্তপাতের প্রকৃত মাত্রা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা যায়, রক্তপাতের পরিসর সম্পূর্ণভাবে বোঝার জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
বিদেশে থাকা নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগকারী পরিবারগুলো জানাচ্ছে যে, তাদের আত্মীয়-স্বজনরা দেশের ভিতরে ভয়াবহ প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়েছে। এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, বিক্ষোভের পরপরই ব্যাপক হিংসা ও ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।
কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত রাশত শহরের বাসিন্দা বর্ণনা করছেন যে, শহরটি এখন আর পূর্বের চেহারা ফিরে পায়নি। গলিগুলোতে জ্বালাময় ধোঁয়া, পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ এবং ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরী তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আপিলের সুযোগ বা বিলম্বের সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো শাস্তি রোধে আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে থাকে, তবে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি কঠোরভাবে বজায় রয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শাস্তি প্রয়োগের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
বিকাশমান কাহিনীর অংশ হিসেবে, এই শাস্তি ও তার পরবর্তী প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত থাকবে, যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করা যায়।



