শহীদ মিনার, ঢাকা‑এর কেন্দ্রে আগামী শুক্রবার বিকাল ৩:৩০ টায় একটি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের উদ্বোধন হবে। এই সংগঠনটি জুলাই ২০২৩‑এর গণ‑অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বাম ও মধ্যপন্থী তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত, যার লক্ষ্য ন্যায়সঙ্গত নীতি প্রণয়ন ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। নাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও, সংগঠনকে ‘নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস’ বলা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ মিনারের ঐতিহাসিক পরিবেশে উপস্থিত থাকবে বিভিন্ন ধর্ম‑জাতির তরুণ কর্মী, ছাত্র নেতা ও সামাজিক কর্মী। অনুষ্ঠানের সময়সূচি অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে তিনটায় মূল বক্তৃতা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হবে, এরপর অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলোচনা করবে।
জুলাই উত্থানের সময় বাম‑মধ্যপন্থী আদর্শের সমর্থকরা ব্যাপক জনসাধারণের মনোযোগ অর্জন করেছিল; এখন তারা নতুন প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে চায়। উত্থানের অংশগ্রহণকারী এই তরুণরা দাবি করে যে, সমাজের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে হলে আদর্শ‑ভিত্তিক বিভাজন ছাড়াই সমন্বিত নীতি দরকার।
সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)‑এর কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করা তিনজন নেতা এই নতুন উদ্যোগে যোগ দিয়েছেন। অনিক রায়, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) ও অলিক মৃ এই প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত। অনিক রায় পূর্বে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক হন। তুহিন খান এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করেছেন, আর অলিক মৃ আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সাবেক নেতা ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ছিলেন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, গবেষক ও লেখক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, লেখক ফেরদৌস আরা রুমী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লা বসু এবং সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। এই ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সক্রিয় এবং নতুন প্ল্যাটফর্মের নীতি‑নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল, ধর্ম‑বর্ণ‑জাতি‑বৈষম্যকে পেছনে রেখে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা—শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা—মাধ্যমে নীতি গঠন করা। অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলছেন যে, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের বাস্তবিক প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে সমাজের সব স্তরে সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
একজন উচ্চপদস্থ নেতা, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নির্দিষ্ট মতাদর্শের নামে সমাজে বিভাজন ও অনৈক্য সৃষ্টি হয়। তিনি দাবি করেন, ধর্ম‑বর্ণ‑নির্বিশেষে নীতি গঠন করলে জনগণের মৌলিক অধিকার—শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ন্যায়সঙ্গত জীবনের সুযোগ—সুনিশ্চিত হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হল, নীতি‑নির্ধারণে বৈচিত্র্যময় মতামতকে একত্রিত করে সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই সমবেত উদ্যোগটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে। বাম‑মধ্যপন্থী তরুণদের সমন্বয় ও এনসিপি‑এর প্রাক্তন নেতাদের অংশগ্রহণের ফলে, বিদ্যমান দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং নীতি‑আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যুক্ত হবে। ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম কীভাবে বিকশিত হবে, তা নির্ভর করবে তাদের সংগঠনগত কাঠামো ও নির্বাচনী কৌশলের উপর।
উদ্বোধনের পর, সংগঠনটি নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া চালু করবে এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য কর্মশালা ও পরামর্শ সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এভাবে, নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়িয়ে, ন্যায়সঙ্গত ও সমন্বিত উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করতে চায়।



